বাঁ হাঁটুতে অস্ত্রোপচারের পর অবশেষে প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে ফিরেছেন নেইমার জুনিয়র। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) কাম্পেওনাতো পাউলিস্তার শেষ ষোলোতে ভেলো ক্লাবকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে দেয় সান্তোস। বিরতির পর মাঠে নেমে একটি অ্যাসিস্ট করে ফেরার ম্যাচেই নিজের উপস্থিতি জানান দেন ব্রাজিল তারকা।
গত মৌসুমের শেষ ম্যাচে সান্তোসকে অবনমন থেকে বাঁচানোর পর অস্ত্রোপচারের টেবিলে যেতে হয়েছিল নেইমারকে। বাঁ হাঁটুতে সফল অস্ত্রোপচারের পর তিনি নতুন মৌসুমে সুস্থ হয়ে ফেরার লক্ষ্য ঠিক করেন। বিশ্বকাপ দলে জায়গা করে নেওয়ার সংকল্পের কথাও জানিয়েছিলেন। এক মাসের বেশি সময় পর এই ম্যাচ দিয়েই ২০২৬ সালে প্রথমবার প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে নামলেন ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।
ভেলো ক্লাবের বিপক্ষে ম্যাচে বিরতির সময় আর্জেন্টাইন আলভারো বাররেয়ালের বদলি হিসেবে মাঠে নামেন নেইমার। তখন সান্তোস ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে। গ্যাবিগোল, মইসেস ভিয়েরা দা ভেইগা এবং থাসিয়ানো প্রথমার্ধে তিনটি গোল করেন। দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণের ধার বজায় রাখে সান্তোস। গ্যাব্রিয়েল মেনিনো দূরপাল্লার শটে চতুর্থ গোলটি করেন। এরপর গ্যাবিগোলের ব্যক্তিগত দ্বিতীয় গোলের বল বাড়িয়ে দিয়ে অ্যাসিস্টের খাতায় নাম লেখান নেইমার। শেষ গোলটি করেন আর্জেন্টাইন বেনহামিন রোলহেইসার।
রোমানিয়ান সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ডিসেম্বরের পর এটাই ছিল নেইমারের প্রথম ম্যাচ। চোটের কারণে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে ছিলেন তিনি। গত বছর আল হিলাল ছেড়ে সান্তোসে যোগ দেওয়ার পর ইনজুরিতে ভরা একটি মৌসুম কাটালেও দলকে শীর্ষ লিগে টিকিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত সান্তোসের সঙ্গে চুক্তিও বাড়িয়েছেন তিনি।
ব্রাজিল জাতীয় দলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার, তার আন্তর্জাতিক গোল ৭৯টি, যা পেলের চেয়ে দুটি বেশি। ১৭ অক্টোবর ২০২৩ উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে গুরুতর হাঁটুর চোট পাওয়ার পর থেকে জাতীয় দলে আর খেলেননি। নতুন কোচ কার্লো আনচেলত্তি এখনো তাকে দলে ডাকেননি।
এই জয়ে সান্তোস কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ নোভোরিজোন্তিনো। টুর্নামেন্টে চমক দেখানো এই দলটি ব্রাজিলেইরাঁও সিরি বি-তে খেললেও পালমেইরাসকে ৪-০ গোলে হারিয়েছে।