ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে ফলাফলে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদি দল (বিএনপি)। তারই ধারাবাহিকতায় আজ শপথের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। সরকারের প্রধান হতে যাচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের (এমপি) শপথগ্রহণ জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে। এই শপথবাক্য পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। এ বিষয় নিশ্চিত করে উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানান, সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
এদিকে আজ বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন।
জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে গণমাধ্যমকে এ এমনটাই জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘একই দিন সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
শপথে অংশ নিচ্ছেন প্রায় ১২০০ দেশি-বিদেশি অতিথি
জানা গেছে, শপথ অনুষ্ঠানে কমবেশি ১ হাজার ২০০ দেশি-বিদেশি অতিথি যোগ দিতে পারেন। এই হিসাব ধরেই সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি চলে।
বিদেশি অতিথিদের মধ্যে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা, পাকিস্তানের পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবালসহ দক্ষিণ এশিয়ার পাঁচ দেশের প্রতিনিধিরা এই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকায় আসছেন। আসছেন যুক্তরাজ্যের ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি সীমা মালহোত্রাও।
এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুই দিন পর শনিবার থেকেই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও সংসদ সচিবালয় শপথ অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করেছে।’
বঙ্গভবন সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিনের প্রচলিত রীতি ভেঙে এবার শপথ অনুষ্ঠান বঙ্গভবনের পরিবর্তে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজন করা হচ্ছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব এম সিরাজ মিয়া পুরো অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে।
নিয়ম অনুযায়ী, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের পর সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী দল বিএনপি সংসদীয় বোর্ডের সভা করবে। সেখানে সংসদীয় নেতা নির্বাচন করা হবে। পরবর্তী সময়ে দলীয় নেতা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক দাবি জানাবেন এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগের আবেদন করবেন। রাষ্ট্রপতি সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেবেন, যিনি পরবর্তী সময়ে মন্ত্রিসভার সদস্যদের নির্বাচন করবেন।
রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন প্রথমে প্রধানমন্ত্রীকে এবং পরে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের শপথ পাঠ করাবেন।
সংবিধান অনুসারে, গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণ করতে হয়।
উল্লেখ্য, শুক্রবার রাতে নির্বাচন কমিশন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২৯৭টির গেজেট প্রকাশ করেছে। এ নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। তাই দলটি সরকারগঠন করতে যাচ্ছে।