বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নেতৃত্বাধীন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নিয়েছেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা পৌনে ১১টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে শপথ নেন তারেক রহমানসহ দলটির এমপিরা। শপথের পর তাঁরা শপথপত্রে সই করেন।
শপথ অনুষ্ঠান শুরু হয় পবিত্র কোরআনের সুরা আন নাহলের ৯১ নম্বর আয়াত তেলাওয়াতের মাধ্যমে। রেওয়াজ অনুযায়ী সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে বিএনপির সদস্যদের শপথ আগে পড়ানো হয়। পরে অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা শপথ নেবেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বিএনপি জোট। বেসরকারি ফলাফলে ২৯৭টি আসনের মধ্যে বিএনপি পেয়েছে ২০৯টি আসন, অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন। এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি ছয়টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সাতটি আসনে জয়লাভ করেছেন। এর আগে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত ফলাফলে বিএনপি জোটের ২১২টি আসনে জয়লাভের তথ্য জানানো হয়।
পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এবার নতুন এমপিরা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছ থেকে শপথ নেন। আগের সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী প্রকাশ্যে না থাকায় এবং ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু কারাগারে থাকায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংসদ সচিব কানিজ মওলা।
শপথ অনুষ্ঠানে দেশি ও বিদেশি অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। শুরুতে এমপিদের সামনে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি সংবিধান সংস্কার পরিষদ বিষয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত তুলে ধরেন।
সূচি অনুযায়ী, শপথের পর বেলা সাড়ে ১১টায় বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠকে তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদ নেতা নির্বাচিত করার কথা রয়েছে। এরপর বিকেল ৪টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এর কাছে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান ও নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেবেন। সন্ধ্যায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে নতুন মন্ত্রীদের দফতর বণ্টন ও প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
সব কিছু ঠিক থাকলে বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বসতে পারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন।