যশোরের চৌগাছায় নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় বিভিন্ন ইউনিয়নে ১৩ জন আহত হয়েছে। জামায়াত কর্মীদের অভিযোগ বিএনপি কর্মীরা এ হামলা চালিয়েছে। বাড়ি ঘরে হামলা ও হুমকি অব্যহত রয়েছে। এঘটনায় একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
কেন্দ্রে দাড়িপাল্লা পাশ করায় নির্বাচনের দিন রাতেই উপজেলার সুখকুপুরিয়া ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামে তান্ডব চালায় একই গ্রামের বিএনপি কর্মী রমজান আলীসহ তার সাঙ্গপাঙ্গরা। হামলায় গ্রামের মতিয়ার রহমানের স্ত্রী রোকেয়া বেগম (৪৯), মন্টুর মিয়ার স্ত্রী মরিয়ম খাতুন (৫০), ছেলে পিয়াস উদ্দীন (৩৫) গুরুতর আহত হয়।
একই দিন ফুলসারা ইউনিয়নের দূর্গাবরকাটি গ্রামের জামায়াত কর্মী মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে সাবেক ইউপি সদস্য তোফাজ্জেল হোসেন (৫০), ছেলে শাহাবাজ (২৫), মেয়ে সুমাইয়া খাতুন (১৯), হাফেজ বাহা উদ্দীন (৪৫) কে স্থানীয় বিএনপি কর্মী ইউসুফ, মেহের আলী ও মিলনসহ কয়েকজন হামলা চালিয়ে আহত করে।
বাড়িয়ালি গ্রামের অব.সেনা কর্মকর্তা ওলিয়ার রহমান ও একই এলাকার জামায়াত কর্মী জান্নাতুল ফেরদৌস এর বাড়িতে ওসমান ও ইউপি সদস্য রাজুর নেতৃত্বে হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। বাড়িতে ভাংচুরে বাধা দিলে ওলিয়ার রহমান ও জান্নাতুলকে পিটিয়ে আহত করে।
১৪ ফেব্রয়ারি রাতে উপজেলার পাশাপোল ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের বিএনপি কর্মী চঞ্চলের ছেলে পিয়াস, মোশারফের ছেলে বিরো, গোলাম হোসেনের ছেলে নাসিরের নেতৃত্বে হামলা চালিয়ে জামায়াত কর্মী মসজিদের ইমাম মাসুদকে মাথা ফাটিয়ে দেয়ে। এসময় আব্দুল্লাহ আল মামুন, নয়ন, আমীর হামজাসহ আরও কয়েকজন জামায়াত কর্মী আহত হয়।
এঘটনায় অভিযুক্ত তরিকুল ইসলাম বিরোর ছেলে সাকিনুল ইসলামকে আটক করেছে চৌগাছা থানার পুলিশ এবং এলাকায় পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।
পাতিবিলা ইউনিয়নে দাড়িপাল্লায় ভোট করার অভিযোগে কৃষক রুহুল আমিনের একটি সেগুন বাগান কেটে সাবাড় করে দেয় বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াত নেতারা।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোকেয়া ও মরিয়ম, মাসুদসহ কয়েকজন জানায়, যারা তাদের উপরে হামলা চালিয়েছে তাদের বেশির ভাগই আওয়ামীলীগের কর্মী। এরাই বিগত সময়ে বিএনপি-জামায়াতের কর্মীদের নির্যাতন করেছে। এখন তারাই আবার বিএনপি হয়ে তাদের নির্যাতন করছে।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাসুদুল হাসান তার ফেসবুক আইডিতে স্টাটাসে বলেন, নির্বাচন পরবর্তী কোনো সহিংসতার দায় উপজেলা বিএনপি নেবেনা।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ সালাম বলেন, আমরা কর্মীদেরকে কোনো সহিংসতায় জড়াতে নিষেধ করেছি। এরপরেও কোনো কর্মী সহিংসতায় জড়ালে তার দায় দল নেবেনা।
চৌগাছা থানার ওসি রেজাউল করিম বলেন, সহিংসতার অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ বলেন, অন্যায় ভাবে আমার নেতা কমের্িদর উপরে হামলা চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, জয় পরাজয় থাকবে। পরাজিত প্রার্থীর কর্মীদের উপরে হামলার সংস্কৃতি পরিহার করা উচিৎ। তিনি আরো বলেন, আমরা সকলে মিলে দেশকে এগিয়ে নিতে চায়। আমরা নতুন করে কোনো সহিংসতার বাংলাদেশ দেখতে চাইনা।