স্বীমীর কথা না শুনে বিএনপিতে ভোট দেওয়ায় তালাক, দায়িত্ব নিল বিএনপি

এফএনএস (মোঃ জাহাঙ্গীর আলম; সেনবাগ, নোয়াখালী) : | প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ১২:৫১ পিএম
স্বীমীর কথা না শুনে বিএনপিতে ভোট দেওয়ায় তালাক, দায়িত্ব নিল বিএনপি

সেনবাগের স্বামী মোঃ ইদ্রিসের কথা না শুনে ধানের শীষ মার্কায় ভোট দেওয়ার কারনে স্বামী কর্তৃক তালাক প্রাপ্ত বিবি ফাতেমা বেগম (২৭) নামের সেই নারী ও তার তিন সন্তানের দায়িত্ব নিল সেনবাগ উপজেলা বিএনপি।

 সোমবার একটি টেলিভিশনের অনলাইনের ,কয়েটি জাতীয় দৈনিক ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেজবুকে সেনবাগের সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে স্বামীর পচর্ন্দে প্রাথীর কাপ-পিরিচ মার্কায় ভোট না দিয়ে ধানের শীষ মার্কায় ভোট দেওয়া ক্ষিপ্ত হয়ে তিন সন্তানের জননী স্ত্রীকে তালাক শিরোনামে সংবাদ প্রচারিত হয়।

এরপর বিষয়টি নজরে আসে শপথ নেওয়ার জন্য ঢাকায় অবস্থান করা নোয়াখালী-২(সেনবাগ-সোনাইমুড়ী আংশিক) আসনে থেকে ৬ষ্ঠ বারের মতো নির্বাচিত সংসদ সদস্য সাবেক বিরোধীদলীয় চীফহুইপ জয়নুল আবদিন ফারুকের । তিনি তাৎক্ষনিক সেনবাগ পৌরসভা বিএনপি সদস্য সচিব শহীদ উল্লাহ ও কেশারপাড় ইউনিয়ণ বিএনপির সভাপতি সেলিম চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দলকে তালাক প্রাপ্ত নারীর পিতার বাড়ি ৮নং ওয়ার্ড কেশারপাড় দিঘীর পাড় গ্রামের মোঃ হাছান আলী মুন্সি বাড়িতে প্রেরণ করে।

এ সময় বিএনপির প্রতিনিধি দল ওই নারীর মুখে বিস্তারিত শুনে আবেগ আপ্লুতু হয়ে পড়েন। এসময় নব নির্বাচিত সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুকের পক্ষ থেকে ভুক্তভোগী নারীকে এক মাসের বাজার চাল,ডাল, তেল,লবন,আলুসহ আনুসাঙ্গিক বাজার সদাই করে বাড়ি পৌছে দেন। এসময় প্রতিনিধি দল তালাক প্রাপ্ত নারী ও তার তিন সন্তানের লেখাপড়া ও বরণ পোষনের দায়িত্ব জয়নুল আবিদন ফারুক তথা সেনবাগ উপজেলা বিএনপি নিবে বলে আশ্বাস দেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাপ-পিরিচ মার্কায় ভোট না দিয়ে বিএনপির ধানের শীষ মার্কায় ভোট দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে স্ত্রী তিন সন্তানের জননী ফাতেমা বেগম ( ২৭) কে তালাক দেওয়ার ঘটনায় পুরো এলাকায় দারুণ চাঞ্চল্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ফাতেমার তিন সন্তান রয়েছে। এরা হ্েছঃ  বিবি মরিয়ম,নাসরিন জাহান মীম ও মোঃ ইসমাইল।

জানাগেছে, কেশারপাড় দক্ষিন পাড়া আকল আলী মজুমদার বাড়ির মোঃ রফিকের ছেলে মোঃ ইদ্রিস স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী মফিজুর রহমান কাপ পিরিচ মার্কার ভোট করে। ভোটের দিন স্বামী মোঃ ইদ্রিস স্ত্রী ফাতেমা বেগমকে কাপ পিরিচ মার্কায় ভোট দেওয়ার জন্য কেন্দ্রে পাঠায়। কিন্তু ফাতেমা কেন্দ্রে গিয়ে কাপ পিরিচ মার্কায় ভোট না দিয়ে ধানের শীষ মার্কায় ভোট দেন। সে ভোট দিয়ে কেন্দ্রে থেকে বাহির হয়ে বাড়িতে পৌছলে স্বামী তাকে জিজ্ঞেসা করেন কাপ পিরিচ মার্কায় ভোট দিয়েছে কিনা। প্রতি উত্তরে স্ত্রী বলেন না সে ধানের শীষ মার্কায় ভোট দিয়েছে এতে সে স্ত্রীর ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে স্ত্রীকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। এরেই মধ্যে ভোট গননা শেষে দেখা যায় কাপ পিরিচ মার্কার প্রাথী পরাজিত হয়।

 তিনদিন পর রবিবার স্বামী ইদ্রিস বাড়িতে ফিরে এলে স্ত্রী সন্ধ্যায় অসুস্থ মেয়েক ডাক্তার দেখানোর জন্য স্বামী মোঃ ইদ্রিসকে বলে। এসময় ক্ষিপ্ত হয়ে স্ত্রীকে বলে তুই যাকে ভোট দিয়েছিস ওই বাপদের নিকট থেকে টাকা নিয়ে চিকিৎসা করা। এক পর্যাযে সে স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দেয়।

বর্তমানে তালাক প্রাপ্ত স্ত্রী তার পিতার বাড়ি কেশারপাড় ৭নং ওয়ার্ডে কেশারপাড় দিঘীরপাড় হাছন আলাি মুি ন্সবাড়িতে অবস্থান করছে।

এব্যাপারে অভিযুক্ত মোঃ ইদ্রিসের মুঠোফোনে একাধিক বার ফোন দেওয়া হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায় এ কারণে তার বক্তব্য নেওয়া সম্বভ হয়নি। তবে,সরেজমিনে তার বাড়িতে গেলে ইদ্রিসের পিতা মোঃ রফিক বলেন, ভোট নিয়ে তালাকের ঘটনা ঘটেনি। তবে, তৃতীয় বিয়ে করায় ও মাদকাক্ত হয়ে পড়ার কারনে সাংসারিক ঝড়গার জেরে ওই তালাকের ঘটনাটি ঘটেছে এ সময় তারা বাড়িতে ছিলেননা।

এলাকাবাসী বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও বিএনপিকে অসহায় তালাক প্রাপ্ত নারী ও তার তিন সন্তানদের দায়িত্ব নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে