প্রতিবছরই এই সময়টাতে নিত্যপণ্য বা রোজাদারদের পছন্দের খাদ্যপণ্যগুলোর দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। সারা দিন রোজা রাখার পর ইফতারের সময় রোজাদাররা লেবুর শরবত খেতে পছন্দ করেন। এরই মধ্যে বাজারে লেবুর দাম বেড়ে গেছে কয়েক গুণ। এক মাস আগেও যে লেবুর হালি ছিল ২০ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে, সেই একই লেবু এখন বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ১০০ টাকা দরে। একই চিত্র দেখা গিয়েছিল আগের রমজানেও। গত রমজানের দুই সপ্তাহ আগে ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হওয়া এক হালি লেবু প্রথম রোজায় বিক্রি হয়েছে ১০০ টাকার ওপরে। এবারও একই অবস্থা। এবারও পর্যাপ্ত পণ্য আমদানি ও মজুত থাকা সত্ত্বেও মাত্র কয়েক দিন আগে শেষ হওয়া জাতীয় নির্বাচনকেন্দ্রিক সরবরাহ বিচ্যুতি এবং খুচরা বাজারে অসাধু সিন্ডিকেটের কারসাজি নতুন করে শঙ্কা জাগাচ্ছে। বেড়েছে খেজুরসহ কিছু ফলের দাম। ছোলা, পেঁয়াজ, মাছ, মাংস, শাক-সবজির দামও সপ্তাহের ব্যবধানে অনেকটা বাড়তি। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে স্বল্প আয়ের মানুষ। গত বছরের তুলনায় এবার ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, মসুর ডাল ও গমের আমদানি বেড়েছে। আমদানিকারকেরাও দাবি করছেন যে কারখানায় প্রক্রিয়াজাতকরণ স্বাভাবিক রয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন জাগে, আমদানির এই ‘স্বাস্থ্যকর’ পরিসংখ্যান সাধারণ ভোক্তার পকেটে স্বস্তি দিচ্ছে কি? বাস্তবতা হলো, রাজধানীর খুচরা বাজারে গেলেই সেই পরিচিত অস্বস্তির রূপ দেখা যায়। লেবুর হালি ১০০ টাকা ছাড়িয়েছে, খেজুরের দাম কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেড়েছে, এমনকি গরুর মাংস ও মুরগির দামও সাধারণের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা দায় চাপাচ্ছেন নির্বাচনুপরবর্তী পরিবহনসংকট ও শ্রমিকসংকটের ওপর। এটি সত্য যে নির্বাচনের ছুটিতে কয়েক দিন পণ্য সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। কিন্তু এই সাময়িক সুযোগকে কাজে লাগিয়ে খুচরা ও পাইকারি পর্যায়ে দামের যে উল্লম্ফন দেখা যাচ্ছে, তা কেবল ‘সরবরাহসংকট’ দিয়ে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, রমজান এলেই নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যায়। আর এর প্রধান কারণ বাজারে কারো কোনো নিয়ন্ত্রণ না থাকা। রমজান উপলক্ষে মুসলিমপ্রধান দেশগুলোতে পণ্যের দাম কমে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে ব্যাপক ছাড় দেওয়া হয়। আর আমাদের বাজারে ঘটে উল্টোটা। অনৈতিক লাভের প্রবণতা রোধে নব-নির্বাচিত সরকারকে তৎপর হতে হবে। তাহলে স্বস্তি ফিরে পাবে সাধারণ মানুষ। নবনির্বাচিত সরকার শপথ গ্রহণের এক বা দুই দিন পর রমজান মাস শুরু। ফলে রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ নতুন সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তাই শুরুতেই সরকারকে অসাধু সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর হতে হবে।