ময়মনসিংহের গৌরীপুরে দলীয় কোন্দল ও নির্বাচন পরবর্তী প্রতিহিংসার জেরে উপজেলা বিএনপির এক কর্মীর মাথা ন্যাড়া করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী আবদুল মান্নান তালুকদারকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে গৌরীপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় পৌর কৃষক দলের সভাপতি শাহী মুন্সীসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৬-৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। এনিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে ময়মনসিংহ নগরীর টাউন হলে সংবাদ সম্মেলন করে ভুক্তভোগী আবদুল মান্নান তালুকদার বিচার দাবি করেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ঘোড়া প্রতীকের পরাজিত প্রার্থী আহাম্মদ তায়েবুর রহমান হিরন বলেন, তিনি সামান্য ভোটের ব্যবধানে হারার পর থেকে ধানের শীষের প্রার্থীর কর্মী সমর্থকরা তার বিভিন্ন কর্মী সমর্থকদের বাড়িতে হামলা ভাঙচুর করছে। বারবার কারা নির্যাতিত নেতা আবদুল মান্নান তালুকদারকেও তারা ছাড় দেননি। মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি দুপুর আনুমানিক ২টায় আবদুল মান্নান তালুকদার অটোরিকশা যোগে গৌরীপুর থেকে ময়মনসিংহ যাচ্ছিলেন। গৌরীপুর নতুন বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন রেলক্রসিং এলাকায় সিএনজিটি পৌঁছালে পৌর ট্যাক্স টোল আদায়ের জন্য গতিরোধ করা হয়। এসময় প্রধান আসামি শাহী মুন্সী তাকে অটোরিকশা থেকে টেনেহিঁচড়ে নামান এবং এলোপাতাড়ি কিলঘুষি মারেন। পরবর্তীতে তাকে একটি সেলুনে নিয়ে গিয়ে মাথার চুল ও চোখের ভ্রু ব্লেড দিয়ে কেটে ন্যাড়া করে দেওয়া হয়। এই ঘটনার পর পথচারীদের ডেকে এনে তাকে প্রদর্শন করে সামাজিকভাবে অপদস্থ করা হয়। গৌরীপুর উপজেলা বিএনপির সদস্য ভুক্তভোগী আবদুল মান্নান তালুকদার জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি এই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আহাম্মদ তায়েবুর রহমান হিরণের (ঘোড়া প্রতীক) পক্ষে কাজ করেছিলেন। অন্যদিকে, অভিযুক্ত শাহী মুন্সী বিএনপির বিজয়ী প্রার্থী ও বর্তমান প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হোসেইনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। মান্নান তালুকদারের দাবি, কেবল স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচন করাই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি ক্ষোভের সাথে বলেন, ১৭ বছর ফ্যাসিস্টের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি, জেল খেটেছি। কিন্তু আজ নিজ দলের নেতাকর্মীদের হাতেই এমন উপহার পেলাম! অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত পৌর কৃষক দলের সভাপতি শাহী মুন্সী বলেন, নির্বাচনের পরে গৌরীপুর ৩ আসনের এমপি ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হোসেইন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। পরে আমরা উপজেলা শহরের বিজয় মিছিল করি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পরাজিত প্রার্থী হিরন আমাদের বিরুদ্ধে একটি সাজানো নাটকের অভিযোগ করে। এধরনের কোন ঘটনাই গৌরীপুরে ঘটেনি। সঠিকভাবে তদন্ত করলে এর কোন সত্যতাই মিলবে না। আমাকে হয়রানি করার জন্যই থানায় মামলা করা হয়েছে। এর আগেও তারা অনেক মিথ্যা মামলায় মানুষকে হয়রানি করেছে। গৌরীপুর, নান্দাইল ও ঈশ্বরগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেবাশীষ কর্মকার জানান, ঘটনার সত্যতা পেয়েছে গৌরীপুর থানা পুলিশ। পরে অভিযোগটি আমলে নিয়ে মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। গৌরীপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুল ইসলাম খান শহীদ জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে পৌর কৃষক দলের সভাপতি শাহী মুন্সী এ ঘটনায় জড়িত নন বলে আমাকে জানিয়েছেন। তবে দলের কেউ যদি এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকে তবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহসভাপতি ও ময়মনসিংহ জেলা কৃষক দলের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আবুল বাশার আকন্দ জানান, বিষয়টি কেন্দ্রীয় কমিটিকে জানানো হয়েছে এবং সত্যতা প্রমাণিত হলে দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।