হারিয়ে যাওয়ার পথে বাঁশ ও বেতের তৈরি পণ্য

এফএনএস (শাকিল আহমেদ শাহরিয়ার; শেরপুর) : | প্রকাশ: ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৪:৪৯ পিএম
হারিয়ে যাওয়ার পথে বাঁশ ও বেতের তৈরি পণ্য

বাঁশ ও বেতের তৈরি পণ্যের কদর এখন নেই বললেই চলে। ঐতিহ্য হারাতে বসেছে এই শিল্পটি। বর্তমান প্রযুক্তির যুগে বাঁশ ও বেত শিল্পের তৈরি মনকাড়া বিভিন্ন জিনিসের জায়গা দখল করেছে স্বল্প দামের প্লাস্টিক ও লোহার তৈরি পণ্য। বাঁশ ও বেতের তৈরি মনকাড়া পণ্যগুলো এখন হারিয়ে যাওয়ার পথে। অভাবের তাড়নায় এই শিল্পের কারিগররা দীর্ঘদিনের বাপ-দাদার পেশা ছেড়ে অন্য পেশার দিকে ছুটছে। দিন দিন বিভিন্ন জিনিস-পত্রের মূল্য যেভাবে বাড়ছে তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে না এই শিল্পের তৈরি বিভিন্ন পণ্যের মূল্য। যার কারণে কারিগররা জীবন সংসারে টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছেন। এক সময় বাসা-বাড়ি, অফিস-আদালতসহ কৃষি কাজে ব্যবহার করা হতো বাঁশ ও বেতের তৈরি আসবাবপত্র। কয়েক বছর আগেও বাঁশ ও বেতের তৈরি জিনিসের কদর ছিল। চেয়ার, টেবিল, বইয়ের সেলফ, মোড়া, কুলা, ঝুড়ি, ডোল, চাটাই থেকে শুরু করে এমনকি ড্রইংরুমের আসবাবপত্র তৈরিতেও বাঁশ ও বেত প্রচুর পরিমাণে ব্যবহার করা হতো।। এখনো গ্রামাঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানে মাছ ধরার পলো, হাঁস, মুরগির খাঁচা, শিশুদের ঘুম  পাড়ানোর দোলনা ব্যাপকভাবে সমাদৃত।  গ্রামীণ উৎসব বা মেলাতেও এখন সচরাচর বাঁশ ও বেতজাত শিল্পীদের তৈরি সামগ্রী চোখে পড়ে খুব কম শেরপুরের নকলা উপজেলার নারায়খোলার বেপাড়ীপাড়া এলাকার বাঁশ ও বেত শিল্পের কারিগর রহমত উল্লাহ (৬০) বলেন, অতি কষ্টে বাঁশ শিল্প টিকিয়ে রাখতে ধার-দেনা ও বিভিন্ন সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে কোনোরকম জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। নাজমা বেগম (২৬  ) বলেন, বাপ-দাদার আমল থেকে চলে আসা এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পটি ধরে রাখতে অনেক ত্যাগ, কষ্ট, দুঃখ সহ্য করে যাচ্ছি। তবে বাঁশ ও বেতের ঝাড় উজাড় করার ফলে কত দিন এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পটি টিকে থাকবে, তা নিয়ে তাদের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও সংশয় দেখা দিয়েছে। শিরিনা বেগম (৫৬ ) বলেন, সরকার যদি আমাদের স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করে দেয় তাহলে আমরা এ পেশাটাকে ধরে রাখতে পারবো এবং সন্তানদের স্কুলে পড়ালেখা করাতে পারবো।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে