বরিশালের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে ১০৪০ কোটি টাকার প্রকল্প পাস করিয়ে দক্ষতার এক অনন্য উদাহরণ স্থাপন করেছেন মো. আয়মন হাসান রাহাত। এছাড়াও ইতোমধ্যে তিনি বরিশাল অঞ্চলে যে ব্যাপক উন্নয়নযজ্ঞ চালিয়েছেন তা আজ অনেকটা দৃশ্যমান। নতুন ১০৪০ কোটি টাকার ওই প্রকল্পের মাধ্যমে বরিশালের নদীবেষ্টিত মুলাদী, বাবুগঞ্জ, হিজলা, মেহেন্দিগঞ্জ, কাজীরহাট, গৌরনদী, আগৈলঝাড়া, উজিরপুর, বানারীপাড়া, বাকেরগঞ্জসহ জেলার সকল উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কসহ অবকাঠামো নির্মাণ কাজ করা হবে। শিক্ষা, মেধা ও সততার সমন্বয়ে প্রশাসনিক দক্ষতার এক অনন্য উদাহরণ স্থাপনকারী মো. আয়মন হাসান রাহাত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তরে প্রথম শ্রেণি অর্জনের পর তিনি গবেষক, লেখক এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সদ্য সাবেক উপদেষ্টার একান্ত সহকারী সচিব হিসেবে যোগদানের পর থেকেই এ প্রকল্প নিয়ে কাজ করেছেন। তার দায়িত্ব পালনের সময়ের মধ্যে তিনি বরিশাল অঞ্চলে যে ব্যাপক উন্নয়নযজ্ঞ চালিয়েছেন, তা আজ অনেকটা দৃশ্যমান।
ধর্মীয় ও সামাজিক অবকাঠামোয় ব্যাপক সংস্কার : ধর্মীয় ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে চার ধাপে তিনি প্রায় ১২৬টি মসজিদে দুই কোটিরও অধিক টাকার অনুদান এবং সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে সরাসরি সমন্বয় করেছেন। এছাড়া ঈদগাহ, মাদ্রাসা ও গণকবরস্থান উন্নয়নে নেওয়া হয় বিশেষ উদ্যোগ। যা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছে।
৪০ কোটি টাকার যোগাযোগ মহাপরিকল্পনা : বরিশাল অঞ্চলের অর্থনৈতিক গতিশীলতা বাড়াতে সড়ক, সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ এবং মেরামতে প্রায় ৪০ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার হবে এবং হচ্ছে। এতে করে কৃষি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা পাবেন সরাসরি সুবিধা।
বিশুদ্ধ পানি সরবরাহে উদ্যোগ : মুলাদী এলাকায় ২.৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫০০ পরিবারের জন্য পাম্প হাউস নির্মাণের মাধ্যমে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়। এ প্রকল্পের ফলে জনস্বাস্থ্যের মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে এবং দীর্ঘদিনের পানির সংকট লাঘব হয়েছে।
ক্রীড়াঙ্গনে ৩০৮ কোটির মেগা পরিকল্পনা : তরুণ সমাজকে মাদকমুক্ত ও খেলাধুলামুখী রাখতে গৃহীত হয়েছে বড় পরিসরের উদ্যোগ। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৩০৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ২২টি মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলছে। ৩০টিরও বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফুটবল, ভলিবল, দাবা সেটসহ আধুনিক ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের খেলার মাঠ সংস্কারে বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়েছে। গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে হাজার কোটির মিশন : স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রায় ১ হাজার ৪০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে মো. আয়মন হাসান রাহাত সমন্বয় করেছেন। বরিশালের বিভিন্ন উপজেলায় সড়ক, ব্রিজ, শিক্ষা ও সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। অতিরিক্ত বিশেষ বরাদ্দ হিসেবে আরও চার কোটি টাকা নির্দিষ্ট এলাকায় ব্যয় করা হয়েছে।
নদী ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ : নদীবেষ্টিত অঞ্চলে ভাঙনরোধে গ্রহণ করা হয়েছে বিশেষ উদ্যোগ। ইতোমধ্যে মুলাদীর রামারপোল লঞ্চঘাট ও আশ্রয়ণ প্রকল্প রক্ষায় ৫ কোটি ৭৮ লক্ষ টাকা ব্যয়ে বাঁধ নির্মাণ ও বালু ভরাট কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া আড়িয়াল খাঁ নদী ও জয়ন্তী নদীতে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ পরিকল্পনায় ভাঙনকবলিত মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
উন্নয়নের স্বপ্ন থেকে বাস্তবতা : মো. আয়মন হাসান রাহাত কেবল প্রশাসনিক কর্মকর্তা ছিলেন না, তিনি আধুনিক ও সমৃদ্ধ বরিশাল গড়ার এক পরিকল্পনাবিদ ও স্বপ্নদ্রষ্টা হিসেবে নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর সমন্বিত উন্নয়ন কার্যক্রম বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য শক্ত ভিত্তি তৈরি করেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দরা। বরিশালের উত্তর জনপদের ঐতিহ্যবাহী গৌরনদীর মাহিলাড়া ডিগ্রি কলেজের সাবেক মেধাবী ছাত্র এবং মাহিলাড়া ডিগ্রি কলেজ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও বরিশালের মুলাদী উপজেলার রামারপোল গ্রামের বাসিন্দা আয়মন হাসান রাহাতের দায়িত্ব পালনকালে বরিশাল জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বাস্তবায়িত হয়েছে একাধিক বৃহৎ উন্নয়ন কর্মসূচি। যা স্থানীয় অর্থনীতি, সামাজিক অবকাঠামো ও জনজীবনে দৃশ্যমান পরিবর্তন এনেছে।