মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকি। এসব ওষুধ জীবন রক্ষার পরিবর্তে জীবন কেড়ে নিচ্ছে। জেনেশুনে রোগীদের মৃত্যুর পথে ঠেলে দেওয়াটা হত্যাকন্ডেরই শামিল বলে ধরা হয়। জানা গেছে, দেশের বৃহত্তম ওষুধের মার্কেট ফিটফোর্ড বাবু বাজার এলাকায় পাইকারি বিদেশী মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ প্রকাশ্যে বিক্রি করা হচ্ছে। এসব ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ওষুধ প্রশাসনের এক শ্রেণীর কর্মকর্তা, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও সংগঠনের এক শ্রেণীর নেতা প্রতিমাসে নির্ধারিত হারে মাসোহারা পেয়ে থাকেন। এক শ্রেণীর চিকিৎসকও অর্থের লোভে ভেজাল ওষুধ প্রেসক্রিপশনে উল্লেখ করে থাকেন। যে কারণে এসব ওষুধের এত চাহিদা। সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে রাজধানী থেকে মফস্বলে এই মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ছড়িয়ে পড়েছে। এসব ওষুধ ক্যান্সার, হার্ট, কিডনি ও অপারেশনেও ব্যবহৃত হচ্ছে। সংশ্লিস্টরা জানান, বাংলাদেশ ছাড়া পৃথিবীর অন্য কোন দেশে এভাবে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ব্যবহূত হয় না। ওইসব দেশে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বাজারজাত করলে জড়িতদের শাস্তি হয় মৃত্যুদন্ড। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ এদেশে সীমান্ত ও আকাশপথে পাচার হয়ে আসছে ওই সংঘবদ্ধ চক্রের সহায়তায়। ওষুধ পাচারে বিমানবন্দরের এক শ্রেণীর কর্মকর্তা-কর্মচারীও জড়িত। মেয়াদোত্তীর্ণ ও নিষিদ্ধ ওষুধ তারা প্রতি মাসেই জব্দ করে। কিন্তু সেসব ওষুধ কোথায় যায় তা ওষুধ প্রশাসন ও ওষুধ শিল্প সমিতি জানে না। ওষুধ শিল্প সমিতির পক্ষ থেকে এসব ওষুধ নিয়ন্ত্রণের জন্য ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কাছে দাবি জানিনো হয়েছে বহুবার। এসব অপকর্ম রোধে বিভিন্ন ধরনের দিকনির্দেশনাও তাদেও পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। সীমান্ত ও আকাশ পথে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ আসছেই। বিমানবন্দরে এ ধরণের চালান ধরা পড়লেও তা ওষুধ প্রশাসনকে জানানো উচিত। বিদেশে মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার তিন মাস আগেই ওইসব ওষুধ বাজার থেকে তুলে নেওয়া হয়। কোন কোন দেশীয় কোম্পানিও বিদেশ থেকে এসব ওষুধ কিনে এনে মেয়াদ বাড়িয়ে দেয়। এক সূত্রে জানা যায়, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ব্যবসার সিন্ডিকেটের সঙ্গে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের এক শ্রেণীর কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত। তারা অভিযান চালানোর আগেই তথ্য ফাঁস করে দেয়। সরকার মানসম্পন্ন ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিতে ২০১৭ সালে মডেল ফার্মেসি চালুর উদ্যোগ নেয়। এসব ফার্মেসিতে ভেজাল, মেয়াদোত্তীর্ণ, নিম্নমানের ওষুধ না রাখা ও সঠিক তাপমাত্রায় ওষুধ সংরক্ষণে অবকাঠামো এবং প্রশিক্ষিত ফার্মাসিস্ট রাখার বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়। দেশে বর্তমানে আড়াই হাজারের বেশি মডেল ফার্মেসি আছে; যার সিংহভাগ ঢাকায়। এর পরও মডেল ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। সরকার ও সংশ্লিষ্টদের দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।