বায়ুদূষণে শীর্ষে ঢাকা

জনস্বাস্থ্য রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন

এফএনএস | প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৮:০৫ পিএম
জনস্বাস্থ্য রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন

প্রায় সময়ই বায়ূ দূষণের তালিকার শীর্ষে উঠে আসে বাংলাদেশের রাজধানীর নাম। গত সোমবারও বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে উঠে আসে ঢাকা। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এয়ার ভিজুয়ালের তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে রাজধানীর এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) স্কোর ছিল ২৮১, যা ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে পড়ে। একই সময়ে পাকিস্তানের লাহোর ও ভারতের দিল্লি তালিকায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে ছিল। আমরা মনে করি, এই অবস্থান আমাদের জনস্বাস্থ্য ও নগরজীবনের জন্য এক ভয়াবহ সতর্কবার্তা। একিউআই অনুযায়ী, ২০১ থেকে ৩০০ স্কোর মানে বাতাস খুবই অস্বাস্থ্যকর। এর প্রভাব পড়ে শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগীদের ওপর সবচেয়ে বেশি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য বলছে, প্রতিবছর বায়ুদূষণজনিত কারণে প্রায় ৭০ লাখ মানুষ প্রাণ হারান। ঢাকার বায়ুদূষণের প্রধান উৎস হলো নির্মাণকাজের ধুলো, যানবাহনের কালো ধোঁয়া, শিল্পকারখানার নিঃসরণ এবং অনিয়ন্ত্রিত ইটভাটা। শীতকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়। অথচ নগরবাসীর জন্য কার্যকর কোনো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা আমরা দেখতে পাই না। মাঝে মাঝে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা বা ইটভাটা বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা স্থায়ী সমাধান নয়। তাই, বায়ুদূষণ মোকাবিলায় প্রথমত নগর পরিকল্পনায় পরিবেশকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। নির্মাণকাজে ধুলো নিয়ন্ত্রণে কঠোর নিয়ম প্রয়োগ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, যানবাহনের ধোঁয়া কমাতে গণপরিবহন উন্নয়ন ও জ্বালানি মানোন্নয়ন জরুরি। তৃতীয়ত, শিল্পকারখানা ও ইটভাটার ওপর নিয়মিত নজরদারি এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারে বাধ্য করতে হবে। একই সঙ্গে জনসচেতনতা বাড়ানোও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নাগরিকদের মাস্ক ব্যবহার, গাছ লাগানো এবং পরিবেশবান্ধব জীবনধারা গ্রহণে উৎসাহিত করতে হবে। স্কুল-কলেজ থেকে শুরু করে গণমাধ্যম পর্যন্ত সবাইকে এই প্রচারণায় যুক্ত করতে হবে। আমরা মনে করি, বায়ুদূষণ এখন আর শুধু পরিবেশগত সমস্যা নয়, এটি জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতির জন্যও বড় হুমকি। অসুস্থ জনশক্তি দিয়ে কোনো উন্নয়ন টেকসই হতে পারে না। তাই সরকারের উচিত বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া। নগরবাসীর শ্বাস নেওয়ার অধিকার রক্ষাই হোক নতুন সরকারের উন্নয়ন ও মানবিক দায়িত্বের প্রথম শর্ত।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে