কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণভোমরা। অথচ আজ কৃষকরা সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত হচ্ছেন সারের সিন্ডিকেট, ডিজেলের চড়া দাম, কীটনাশকের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং শ্রমিকের উচ্চ মজুরির কারণে। বোরো মৌসুম সামনে রেখে কৃষকেরা নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে আবাদ কমে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে জাতীয় খাদ্যনিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। মূলত, কৃষিপণ্যের ঘাটতির মূল কারণ হলো বাজারে অসাধু সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য। সরকারি হিসাবে গুদামে সারের কোনো সংকট নেই, অথচ মাঠপর্যায়ে কৃষককে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দিয়ে সার কিনতে হচ্ছে। একই সঙ্গে ডিজেল ও কীটনাশকের দামও নাগালের বাইরে চলে গেছে। এর ফলে এক একর জমিতে ৩০ হাজার টাকা খরচ করে সমপরিমাণ টাকার ধান ঘরে উঠবে কি না, তা নিয়ে কৃষকরা অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। লাভ না হওয়ায় অনেকেই আবাদ কমিয়ে শুধু পরিবারের প্রয়োজন মেটাচ্ছেন। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের দায় এড়ানোর প্রবণতা। বিএডিসি বলছে, দাম দেখার দায়িত্ব কৃষি সমপ্রসারণ বিভাগের। আবার কৃষি সমপ্রসারণ বিভাগ বলছে তারা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নয়। এই দায় এড়ানোর সংস্কৃতিই অসাধু ব্যবসায়ীদের সাহস বাড়িয়ে দিচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, শীর্ষ থেকে তৃণমূল পর্যন্ত কিছু কর্মকর্তা এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত। আমরা মনে করি, নতুন সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো এই সিন্ডিকেট ভাঙা। বোরো মৌসুম আমাদের প্রধান দানাদার শস্যের বড় উৎস। কৃষকের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে যারা পকেট ভারী করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে অনতিবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। নিয়মিত বাজার মনিটরিং, প্রতিটি ডিলার পয়েন্টে সরকারি মূল্যের তালিকা টাঙানো এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি খাতে সরকার যে ভর্তুকি দিচ্ছে, সেটির সুফল কৃষকের কাছে পৌঁছাতে হবে। কৃষকের দীর্ঘশ্বাস যদি সরকারের নীতিনির্ধারকদের কানে না পৌঁছায়, তবে অদূর ভবিষ্যতে চালের বাজারে অস্থিরতা ও খাদ্যঘাটতি এড়ানো কঠিন হয়ে পড়বে।