জামালপুরের মেলান্দহে সূর্যমুখী ফুলের চাষের অপার সম্ভাবনা দেখছেন কৃষকরা। ফুলচাষীদের সাথে কথা বলে এমনটাই জানা গেছে। মেলান্দহ উপজেলায় এটাই কোন প্রথম সূর্যমুখী ফুলের চাষ হচ্ছে। মুক্তিসংগ্রাম যাদুঘরের আঙ্গিনায় এই ফুলের চাষ দর্শকদের সাড়া জাগিয়েছে। এ ছাড়াও নাংলা, ঘোষেরপাড়া ও মাহমুদপুর এলাকায় পরিক্ষামূলক সূর্যমুখী ফুল চাষ হচ্ছে। চাষি মাহফুজুল হক (৫৫) জানান-আগে এই ফুল চাষ সম্পর্কে আমরা কিছুই জানতাম না। কৃষি অফিসের সহায়তায় অর্থকরি এই ফুল চাষ শুরু করেছি। কাঙ্খিত ফলন পেলে আগামীতে এই চাষ বৃদ্ধি করবো ইনশাল্লাহ। মুক্তিসংগ্রাম যাদুঘরের ট্রাস্টি এবং ফুলচাষি হিল্লোল সরকার জানিয়েছেন, সূর্যমুখী ফুলের সাথে প্রকৃতির সৌন্দর্য বাসন্তিক পর্যটকদের আকৃষ্ট করছে। এই ফুলের বীজ বক্ষণের জন্য টিয়া পাখির উপদ্রব বৃদ্ধি পেলেও, আমরা পাখি তাড়াবো না। ২০ টাকা টিকিট কেটেও দর্শকরা সূর্যমুখী ফুল দর্শন করছেন। মাদারগঞ্জ আগত মুর্শেদা বেগম (২৭) জানান-বাচ্চাদের নিয়ে এই প্রকৃতি উপভোগ করার জন্য আসছিলাম। অনেক ভালো লাগছে। রোজার দিন না হলে আরো কিছুক্ষণ অবস্থান করতে পারতাম। মৃত্তিকা বিজ্ঞানী ও কৃষিবিদ আবুল বাশার জানিয়েছেন, সূর্যমুখী বীজ পশু-পাখিরও প্রিয় খাবার। শীতকালে তুলনামূলক উচু জমিতে, লাল মাটি, নদীর তীরবর্তী পলিতে মাটিতে খুব ভালো চাষ হয়। সূর্যমুখী তেল কিছুটাু দাম বেশি হলেও, এই তেল কোলস্টোরেলমুক্ত। প্রচলিত তেলের তুলনায় এই তেলের পুষ্টি ও ভেষজ গুণ অনেক বেশি। কৃষি অফিসার আব্দুর রউফ জানিয়েছেন, চলতি বছরে হাইব্রিড টিএসএফ-২৭৫ জাতের ১০ বিঘা জমিতে পরিক্ষামূলক সূর্যমুখী ফুলের চাষ হচ্ছে। যা কৃষকদের জন্যও লাভজনক হতে পারে। কৃষকের এই ফসল বিক্রির সাবির্ক সহযোগিতা করা হবে। এইটা জানার পর কৃষকরা এই ফুল চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছে। সামনের দিনে এর চাহিদা ১০ গুন বৃদ্ধি পেতে পারে।