ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় সরকারি ভাবে কোন নির্দেশনা না থাকলেও ফ্যামিলি কার্ডের আবেদনের নামে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আছিম পাটুলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। জানাগেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে ঘোষিত সারাদেশে নারীদের মাঝে ফ্যমিলি কার্ড দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে জেলার নান্দাইল উপজেলাসহ ১৪ টি উপজেলার একটি করে ইউনিয়নে পাইলট প্রকল্পের অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে কাজ শুরু করা হয়েছে। পাইলট প্রকল্পের আওতায় ফুলবাড়ীয়া উপজেলার নাম না থাকা স্বত্তেও ১২ নং আছিম পাটুলী ইউনিয়ন পরিষদ প্রচারণার মাধ্যমে আবেদন শুরু করা হয়েছে। যা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখাযায়, আছিম পাটুলি ইউনিয়নে ফ্যামিলি কার্ডের আবেদনের খবর শুনে নারীরা লম্বা ভিড় জমিয়েছেন। কারো হাতে ছবি আবার কারো হাতে টাকা। যা নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তার কক্ষে হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন তারা । কোন প্রকার রসিদ ছাড়াই আবেদনের নামে টাকা নিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। আবেদন করতে আসা বাশদী গ্রামের রুবি আকতার জানান, সকালে জানানো হয়েছে ফ্যামিলি কার্ডের আবেদন শুরু হয়েছে। তাই ১০০ টাকা নিয়ে আবেদন করতে আসছি, চেয়ারম্যানের ভাতিজা টাকা জমা নিয়েছেন, কিন্তু কোন ফরম দেয়নি। আছমা আক্তার বলেন, মানুষের মুখে শুনে আবেদন করতে আসছি,টাকা দিয়ে আসলাম সামনে সপ্তাহে আবেদনের কপি দিবে। তারা নির্দেশনা ছাড়া কেমনে কী করতেছে তা জানিনা। আছিম পাটুলি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইমরুল কায়েস বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের আবেদন কম্পিউটারে যদি নেয়, যে কেউ আবেদন করতেই পারে, আবেদন করে ১০০ টাকা নিতেই পারে। তবে ফ্যামিলি কার্ড সংক্রান্তে তিনি কোন চিঠি পাননি আর আবেদনের জন্য কাউকে নির্দেশও দেননি বলে জানান। উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক জানান, এ বিষয়ে আমরা এখন পর্যন্ত কোন চিঠি পাইনি। নির্দেশনা ছাড়া ইউনিয়ন পরিষদে আগাম আবেদন করা কোনভাবেই উচিৎ নয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, ফ্যমিলি কার্ডের আবেদন করার বিষয়ে শুনেছি, এ বিষয়ে আমরা ব্যবস্থা নিবো। উল্লেখ, আছিম পাটুলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আছিম বাজার উন্নয়নের নামে ইতিপূর্বে দায়সাড়া ২৯ লাখ টাকা প্রকল্প করে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। ড্রেনে ধ্বসসহ একটি ইউ ড্রেন নির্মাণের ৩ মাসের মাথায় ভেঙ্গে যায়।