আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা পাকিস্তানের

এফএনএস অনলাইন | প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ১১:৫৩ এএম
আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা পাকিস্তানের
ছবি, সংগৃহিত

আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘প্রকাশ্য যুদ্ধ’ ঘোষণা করেছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা এম আসিফ। পাকিস্তানের সীমান্তে সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে আফগানিস্তানের হামলার পর এ ঘোষণা দেন তিনি।  এক প্রতিবেদনে সংবাদ মাধ্যম বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে।

শুক্রবার খাজা মোহাম্মদ আসিফ সামাজিক যোগাযোগামাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘পাকিস্তান সরাসরি এবং মিত্র দেশগুলোর মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েছে। আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে। এখন আপনাদের সঙ্গে প্রকাশ্য যুদ্ধ শুরু।’

এদিকে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি সকালে এক এক্স পোস্টে লিখেছেন, ‘আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিক্রিয়া ব্যাপক ও চূড়ান্ত।’

উল্লেখ্য, পাকিস্তানের সীমান্তে সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) হামলা চালায় আফগানিস্তান। আফগানিস্তানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলায় কয়েকজন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন।

এ হামলার জবাবে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন গজব লিল হক’ শুরু করেছে পাকিস্তান। এ অভিযানের অংশ হিসেবে পাকিস্তানের বিমান বাহিনীর (পিএএফ) হামলায় ইতোমধ্যে কমপক্ষে ১৩৩ আফগান সেনা নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন দুই শতাধিক।

পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগানিস্তান তাদের ভূখণ্ডে জঙ্গিদের আশ্রয় দিচ্ছে যারা পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। অন্যদিকে তালেবানরা এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, পাকিস্তানের নিরাপত্তা তাদের অভ্যন্তরীণ সমস্যা। দীর্ঘদিনের এই বিরোধের জেরে ২,৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তজুড়ে এখন দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা গেছে, সীমান্তজুড়ে গোলাগুলির ফলে রাতের আকাশে আলোর ঝলকানি এবং ভারী কামানের শব্দ। কাবুলে হামলার একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, রাজধানীর দুটি স্থান থেকে ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠছে এবং একটি বড় অংশে আগুন জ্বলছে। অন্য একটি ভিডিওতে একটি ভবনে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে, যাকে কর্মকর্তারা পাকতিয়া প্রদেশে তালেবানদের একটি সদর দপ্তর বলে দাবি করেছেন।

পাকিস্তানের সরকারি মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে বলেছেন, 'আফগানিস্তানের লক্ষ্যবস্তুতে পাকিস্তানের পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে।' আফগানদের 'বিনা উসকানিতে চালানো হামলার' প্রতিক্রিয়া হিসেবে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে তিনি বর্ণনা করেন। কাবুলে অবস্থানরত রয়টার্সের প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, প্রচণ্ড বিস্ফোরণ এবং যুদ্ধবিমানের শব্দের পর অনেকগুলো অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন শোনা গেছে।

জাইদি দাবি করেছেন, এই হামলায় ১৩৩ জন আফগান তালেবান যোদ্ধা নিহত এবং ২০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছে। এ ছাড়া ২৭টি পোস্ট ধ্বংস এবং ৯টি দখল করা হয়েছে।

অন্যদিকে তালেবান মুখপাত্র মুজাহিদ দাবি করেছেন, তাদের হামলায় ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত এবং ১৯টি পোস্ট দখল করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, নানগারহার প্রদেশে ৮ জন তালেবান যোদ্ধা নিহত ও ১১ জন আহত এবং ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) এবং আইএস (ইসলামিক স্টেট) জঙ্গিদের ক্যাম্পে পাকিস্তান বিমান হামলা চালানোর পর থেকেই দেশটিতে উচ্চ সতর্কাবস্থা জারি রয়েছে। কাবুল জানিয়েছিল, ওই হামলায় ১৩ জন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে। তালেবানরা তখন কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিল যে তারা এর কড়া জবাব দেবে।

আফগানিস্তানের নানগারহার প্রদেশের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বাখতার নিউজ এজেন্সি একটি ছবি প্রকাশ করেছে, যা তাদের দাবি অনুযায়ী আত্মঘাতী হামলাকারীদের একটি ব্যাটালিয়ন। একটি আফগান নিরাপত্তা সূত্রকে উদ্ধৃত করে সংবাদ সংস্থাটি জানিয়েছে, এই আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীরা বিস্ফোরক ভর্তি ভেস্ট এবং কার বোমা নিয়ে বড় ধরনের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

পাকিস্তানি কর্মকর্তারাও সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বড় শহরগুলোতে জঙ্গি হামলার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে তালেবানরা পাকিস্তানি সামরিক স্থাপনায় 'প্রতিশোধমূলক হামলা' চালানোর পর সীমান্তজুড়ে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়। উভয় পক্ষই দাবি করেছে যে তারা ওই লড়াইয়ে একে অপরের সীমান্ত চৌকি ধ্বংস করেছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে