আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান শনিবার সকালে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে বললেন, “মামলারজট আমাদের দেশে একটা প্রকট সমস্যা। সেইটা নিরসন করতে যা যা করতে হয় সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমি অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় যতটুকু তৎপর ছিলাম, এখানে তার থেকে এক ডিগ্রি বেশি হলেও তৎপরতা দেখতে পাবেন।”
আসাদুজ্জামান জানান, “আগামী সংসদ প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনেই অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময়ে সাংবিধানিকভাবে যে ১৩৩ অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে তার প্রত্যেকটিই পেশ করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, নরসিংদীর চাঞ্চল্যকর ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় জড়িতদের যদি কেউ আশ্রয় দেয় তাহলে তাদের শেকড় উপড়ে ফেলা হবে। মাগুরার চাঞ্চল্যকর আছিয়া হত্যাকাণ্ডের সময় অ্যাটর্নি জেনারেল ছিলাম। দ্রুত আছিয়া হত্যার বিচার সম্পন্ন করা হয়েছে। নরসিংদী ও ঝিনাইদহের ধর্ষণ ও হত্যা মামলাও সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করা হবে। অপরাধীরা আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তি পাবে।
দুর্নীতি বন্ধে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কঠোর অবস্থানে থাকার নির্দেশনা দেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, এই সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছে। যারা প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত হবে তাদের শুধু চাকরিই যাবে না, বিভাগীয় মামলার পাশাপাশি দুদকের মাধ্যমেও মামলাও করা হবে।
জনগণের জন্য উন্নয়ন ও অবকাঠামো খাতে বরাদ্দকৃত প্রতিটি টাকার হিসাব কড়ায়-গন্ডায় বুঝে নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, কেউ যদি এক পয়সা কমিশন নেয় বা দুর্নীতি করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কমিশন বাণিজ্য ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িতদের নির্মূলে সরকার ও বিরোধীদল ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করবে বলেও উল্লেখ করেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, আজকের পর থেকে ঝিনাইদহে যারা চাঁদাবাজি, কমিশন বাণিজ্য, হুমকি-ধামকি কিংবা রাজনৈতিক দলাদলি করার চেষ্টা করলে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যেকোন অনিয়মের কথা আমাকে জানাবেন; দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও মাদক নির্মূলে সবাই একসঙ্গে কাজ করব। এ সময় জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ, পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল, জেলা বিএনপির সভাপতি এমএ মজিদ, রাশেদ খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।