১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত

জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে মেঘনা নদীতে মাছ ধরা নিষিদ্ধ

এফএনএস (মিজানুর রহমান; চাঁদপুর) : | প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৫:০৮ পিএম
জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে মেঘনা নদীতে মাছ ধরা নিষিদ্ধ

জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দুই মাস দেশের ৬টি অভয়াশ্রমে সব ধরনের মাছ ধরা, পরিবহন ও মজুত নিষিদ্ধ করেছে সরকার।শনিবার  (২৮ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার পর থেকে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে এবং পদ্মা-মেঘনা নদীতে জেলা প্রশাসন,পুলিশ প্রশাসন, নৌ-পুলিশ কোস্টগার্ড ও মৎস্য বিভাগের যৌথ অভিযান পরিচালিত হবে।   চাঁদপুর থেকে লক্ষ্ণীপুরের রামগতি পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার এলাকা এবং বরিশাল ভোলাসহ প্রধান ৬টি অভয়াশ্রম। ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা আহরণ,পরিবহন,ক্রয়-বিক্রয় ও মজুদ নিষিদ্ধ। এ সময়ে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে মৎস্য আইনে কঠোর আইনি ব্যবস্থা ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।এই নিষেধাজ্ঞার সময়সহ চার মাস প্রতি জেলে ভিজিএফের চাল পাবে প্রতি মাসে ৪০ কেজি করে ১৬০ কেজি। তবে মৎস্য কর্মকর্তা বলছেন, এই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করার জন্য নদীতে মৎস্য বিভাগ, উপজেলা-জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে প্রতিদিন অভিযান পরিচালনা করা হবে। যারা আইন অমান্য করে নদীতে নামবে, তাদের জেল-জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম জানান, চাঁদপুর জেলার ৮ উপজেলায় মোট নিবন্ধিত জেলে ৫৪ হাজার ১২১ জন।এর মধ্যে নারী জেলে রয়েছে ৪৪৮ জন(বেদে)। ইলিশ জেলে রয়েছে ৪৭ হাজার ২৭৫ জন। এবারের জাটকা সংরক্ষণ কর্মসূচিতে জেলেদের খাদ্য সহায়তা হিসেবে চাঁদপুর জেলার চার উপজেলার ৩৯ হাজার ৪০০ জন  চার মাস প্রতিমাসে চল্লিশ কেজি করে চাউল পাবে। ইতিমধ্যে জেলেদের খাদ্য সহায়তার চাল বিতরণ শুরু হয়ে গেছে। তিনি বলেন, জেলা টাস্কফোর্সের নিরবিচ্ছিন্ন চিরুনি অভিযান চলবে, যাতে কোন জেলে নদীতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জাটকাসহ কোন মাছ ধরতে না পারে। জেলা - উপজেলা টাস্কফোর্সের নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি নৌবাহিনীর জাহাজও টহলে থাকবে।  এছাড়া বরফকলগুলো বন্ধ থাকবে। জেলেদেরকে সচেতন করার জন্য নদী এবং উপকূলবর্তী এলাকায় মাইকিং ও পোষ্টারিংসহ সকল ধরনের প্রচারণা অব্যাহত রেখেছে জেলা প্রশাসন ও জেলা মৎস্য বিভাগ। হরিনা ফেরিঘাট সংলগ্ন রাঢ়ি বাড়ি এলাকার জেলে বিল্লাল, মন্টু সরকার, শরীফ হোসেন বলেন,জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের উৎপাদনের লক্ষ্যে সরকার যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সেটা মেনে জেলেরা নদীতে যাবে না। কিন্তু শুধু খাদ্য সহায়তা হিসেবে চাল দেয়।  জেলেদের পুনর্বাসনের বরাদ্দ নেই। কথা থাকলেও সেটা এখন পর্যন্ত হয়নি। যে পরিমাণ জেলে রযেছে, সে পরিমাণ সরকারি খাদ্য সহায়তা দেয়া হয় না বলে অভিযোগ করেন জেলেরা। নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেদের সঠিক তালিকা তৈরি করে আর্থিক সহযোগিতা করার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান তারা। বরফ মিল মালিকরা বলেন, ‘সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে চাঁদপুরের বরফগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এ সময়ে অন্য জেলা থেকে চাঁদপুরে বরফ ঢ়ুকে। এতে স্থানীয় বরফ মিল মালিকদের অনেক লোকসানে পড়তে হয়।’ যদি সরকার বরফকলে সহযোগিতা করত, তাহলে অনেক ভালো হতো বলে দাবি করেন তারা। চাঁদপুর  জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করার জন্য নদীতে মৎস্য বিভাগ, উপজেলা-জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে প্রতিদিন অভিযান পরিচালনা করা হবে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে নামলে জেল-জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এর পরও যারা আইন অমান্য করে নদীতে যাবে,তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এবারও অভিযান সফল হলে অধিক পরিমাণ ইলিশ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।’ জেলা প্রশাসক মো. নাজমুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে কাজ করছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে টাস্কফোর্সের সমন্বয় কমিটি। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ পাশাপাশি ভিজিএফের চাল নিয়ে কোনো অনিয়ম পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  তিনি জেলেদেরকে  নিষেধাজ্ঞা সময়ে নদীতে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে