ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের হরমোজগান প্রদেশে একটি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮৫ জনে দাঁড়িয়েছে। আজ শনিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রাথমিকভাবে পাঁচ শিক্ষার্থীর মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হলেও পরে হতাহতের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। বিচার বিভাগীয় ওয়েবসাইট মিজান অনলাইনের বরাতে জানানো হয়, মিনাব শহরের ওই বিদ্যালয়ে নিহতের সংখ্যা ৮৫ জনে পৌঁছেছে।
ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানায়, হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরের একটি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয় লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। প্রাথমিক মূল্যায়নে নিহতের সংখ্যা ৪০ জন বলা হলেও পরে তা সংশোধন করা হয়।
মিনাব কাউন্টির গভর্নর জানান, সকালে ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এখন পর্যন্ত ৫১ জন শিক্ষার্থী নিহত এবং ৬০ জন আহত হয়েছে। এর আগে স্থানীয় এক কর্মকর্তা রাদমেহর জানিয়েছিলেন, হামলায় অন্তত ২৪ জন স্কুলছাত্রী নিহত হয়েছে। উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত থাকায় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ে বলে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়।
হামলা-পাল্টা হামলায় উত্তেজনা বৃদ্ধি
এই হামলার ঘটনা এমন সময় ঘটল, যখন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা চলাকালে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, তারা ইরানের বিরুদ্ধে “প্রাক্-প্রতিরোধমূলক হামলা”চালিয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র “বড় ধরনের সামরিক অভিযান”শুরু করেছে।
ইরানি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, হামলার অংশ হিসেবে রাজধানী তেহরান ছাড়াও ইসফাহান, কারাজ, কোম, তাবরিজ, বুশেহর, কেরমানশাহ ও ইলাম শহরেও হামলা চালানো হয়েছে।
পরিস্থিতি ঘিরে পুরো অঞ্চলে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সূত্র: আল-জাজিরা