ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার আগে ১৭ ফেব্রুয়ারি দেওয়া তার শেষ ভাষণের ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ পেয়েছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ওয়ানার মাধ্যমে প্রকাশিত ওই ফুটেজে দেখা যায়, জেনেভায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা শুরুর প্রেক্ষাপটে তিনি বক্তব্য দিচ্ছিলেন। এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।
রোববার (১ মার্চ) তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে খামেনির নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করে। তার মৃত্যুর ১১ দিন আগে দেওয়া এই ভাষণই ছিল জনসম্মুখে শেষ বক্তব্য। তখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনা চলছিল, একই সময়ে কূটনৈতিক পর্যায়ে পরোক্ষ যোগাযোগও শুরু হয়েছিল।
ভাষণে খামেনি প্রতিরক্ষা সক্ষমতার প্রশ্নে কঠোর অবস্থান নেন। তিনি বলেন, “আমাদের অবশ্যই প্রতিরোধী অস্ত্র থাকতে হবে। কোনো দেশের কাছে যদি প্রতিরোধী অস্ত্র না থাকে, তাহলে সেই দেশ শত্রুর পায়ের নিচে পিষ্ট হবে।”
তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের সমালোচনা করে বলেন, “এই সময়ে আমাদের দেশের জন্য শক্তিশালী প্রতিরোধমূলক অস্ত্র খুবই প্রয়োজন। কিন্তু আমেরিকা অযথা এতে নাক গলাচ্ছে। তারা বলছে, তোমরা এত মাপের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র রাখতে পারবে, তার বেশি নয়। এতে তাদের কী? এটা পুরোপুরি ইরানের নিজস্ব জাতীয় বিষয়।”
মার্কিন সামরিক শক্তি নিয়েও কটাক্ষ করেন খামেনি। তার ভাষায়, “তাদের মনে হয় এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারবার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীই বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বাহিনী। কিন্তু বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনীও কখনও এমন চড় খেতে পারে, যে সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না।”
বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্যে খামেনি ইরানের প্রতিরক্ষা নীতিকে পুনর্ব্যক্ত করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি বার্তা দেন যে, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও প্রতিরোধ সক্ষমতা নিয়ে তেহরান আপস করবে না। চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে তার এই ভাষণ এখন নতুন করে তাৎপর্য পাচ্ছে। রয়টার্স বলছে, খামেনির শেষ এই প্রকাশ্য বক্তব্য আঞ্চলিক রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।