ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন, আরও ৫ আসনে কারচুপির অভিযোগে হাইকোর্টে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ১ মার্চ, ২০২৬, ০১:৩৫ পিএম
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন, আরও ৫ আসনে কারচুপির অভিযোগে হাইকোর্টে মামলা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগে আরও পাঁচটি আসনে মামলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত মোট নয়টি আসনে নয়জন প্রার্থী পৃথকভাবে হাইকোর্টে আবেদন করেছেন। এর মধ্যে চারটি আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করা হয়েছে। দুইটির ওপর রোববার (১ মার্চ) শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। বাকি তিনটি আবেদন এখনো কার্যতালিকাভুক্ত হয়নি।

গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের ৪৯ ধারা অনুযায়ী নির্বাচনী অনিয়ম সংক্রান্ত আবেদন শুনানির জন্য হাইকোর্ট বিভাগে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের নেতৃত্বাধীন একক বেঞ্চ এসব আবেদন শুনছেন। কার্যতালিকায় উল্লেখ রয়েছে, ২০০১ সালের সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ অনুযায়ী ‘নির্বাচনী’ আবেদনপত্র, রুল ও সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি এই বেঞ্চে শুনানি হবে।

শুনানির জন্য গ্রহণ করা চারটি আসন হলো শেরপুর-১, ঢাকা-৬, ঢাকা-৭ এবং গাইবান্ধা-৪। আবেদনকারী প্রার্থীরা হলেন শেরপুর-১ আসনে বিএনপির সানসিলা জেবরিন, ঢাকা-৬ আসনে জামায়াতের মো. আবদুল মান্নান, ঢাকা-৭ আসনে মো. এনায়াত উল্লাহ এবং গাইবান্ধা-৪ আসনে মো. আবদুর রহিম সরকার।

শেরপুর-১ আসনের ফলাফল বাতিল ও পুনর্নির্বাচনের দাবিতে করা আবেদনের শুনানির জন্য আদালত ২০ এপ্রিল দিন ধার্য করেছেন। বিজয়ী প্রার্থীসহ বিবাদীদের প্রতি নোটিশ জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্য তিন আসনের আবেদনের ওপর ৩ মে ও ১০ মে শুনানি হবে।

জামায়াতের তিন প্রার্থীর পক্ষে আদালতে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির। তিনি বলেন, “আমরা আদালতে ফলাফল শিট উপস্থাপন করি। সেখানে পোলিং এজেন্টের নাম থাকলেও নির্বাচন কমিশনের কোনো সিল নেই। আবার আরেকটি ফলাফল শিট ভিন্ন রকম। একটি ফলাফল শিট দুই রকম হতে পারে না।” তিনি আরও বলেন, “ফলাফল শিটে একাধিক জায়গায় পেন্সিলে লেখা রয়েছে, অথচ এগুলো প্রিন্টেড থাকার কথা। কেন্দ্র নম্বর ও কেন্দ্রের নামও নেই। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আদালত আবেদন গ্রহণ করেছেন।”

এদিকে রাজশাহী-৪ ও পাবনা-৪ আসনেও বিএনপির প্রার্থীরা কারচুপির অভিযোগ তুলে আবেদন করেছেন। রাজশাহী-৪ আসনে জামায়াতের প্রার্থী আব্দুল বারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন বিএনপির প্রার্থী জিয়াউর রহমান। পাবনা-৪ আসনে জামায়াতের বিজয়ী প্রার্থী আবু তালেব মন্ডলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন বিএনপির হাবিবুর রহমান।

রোববার (১ মার্চ) বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল আবেদন দুটি শুনানির জন্য গ্রহণ করেন। আদালত সংশ্লিষ্ট দুই আসনের নির্বাচনী সরঞ্জামাদি নির্বাচন কমিশনের হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন এবং বিজয়ী প্রার্থীদের প্রতি নোটিশ জারি করেন। এসব আবেদনের পরবর্তী শুনানি ১১ মে অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপির প্রার্থীদের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, তাকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী হাবিবুর রহমান।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে