ইরানে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক হামলাকে কেন্দ্র করে মধ্যেপ্রাচ্যে ভয়াবহ যুদ্ধে রূপ নিচ্ছে। এখন পযর্ন্ত চলমান এ যুদ্ধে অন্তত ৬০০ প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। যার মধ্যে বেশি সংখ্যকই ইরানের নাগরিক।
ইরানের রেড ক্রিসেন্ট এর বরাতে আজ সোমবার এক প্রতিবেদনে সংবাদ মাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড এমন তথ্য জানিয়েছে।
যৌথ হামলার জবাবে ইরান পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে। এ প্রেক্ষাপটে সোমবার (২ মার্চ) সকালে কুয়েতে একাধিক মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত ও ভূপাতিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কয়েকটি মার্কিন যুদ্ধবিমান আজ সকালে বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে সব পাইলট-ক্রু বেঁচে আছেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দুর্ঘটনার কারণ তদন্তাধীন রয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয় এবং পাইলটদের হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। তাদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে।
তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের দাবি, কুয়েতে একটি মার্কিন এফ-১৫ ঈগল যুদ্ধবিমান ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুলিতে ভূপাতিত হয়েছে। যদিও এই দাবির বিষয়ে মার্কিন পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে একটি যুদ্ধবিমান আকাশ থেকে ভূপাতিত হয়ে পড়তে দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়। কিছু ফুটেজে প্যারাশুটে নামা এক পাইলটকে স্থানীয় একটি বেসামরিক গাড়িতে করে সরিয়ে নেওয়ার দৃশ্যও রয়েছে। তবে এসব ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সব মিলিয়ে, উপসাগরীয় আকাশে যুদ্ধের আগুন এখন আরও তীব্রতর হচ্ছে। প্রায় ৬০০ প্রাণহানির এই মর্মান্তিক পরিসংখ্যান ইঙ্গিত দিচ্ছে-সংঘাত শুধু সামরিক শক্তির নয়, বরং মানবিক বিপর্যয়ের দিকেও দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।
সংঘাতের বিস্তার নিয়ে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হতে পারে। ইতোমধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে।