খাদের কিনারে অর্থনীতি

টেনে তুলতে জরুরি উদ্যোগ প্রয়োজন

এফএনএস | প্রকাশ: ২ মার্চ, ২০২৬, ০৮:০৩ পিএম
টেনে তুলতে জরুরি উদ্যোগ প্রয়োজন

বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে খাদের কিনারে রয়েছে। নতুন বিনিয়োগ নেই, ফলে কর্মসংস্থান বাড়ছে না। ঋণের অতি উচ্চ সুদহার বিনিয়োগকে প্রায় অসম্ভব করে তুলেছে। শিল্পের উৎপাদন যেখানে স্বাভাবিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার কথা, সেখানে গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে উৎপাদন ক্রমেই কমছে। কোনো কোনো শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন সক্ষমতা অর্ধেকে নেমে এসেছে। এতে উদ্যোক্তাদের লোকসান বাড়ছে, অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, আর লাখ লাখ শ্রমিক বেকার হয়ে পড়ছেন। শিল্পোৎপাদন সূচক কমেছে ১২ শতাংশ, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সরকারের রাজস্ব আয়ে। রাজস্ব আয় ক্রমাগতভাবে কমছে, অথচ দেশি-বিদেশি ঋণের পরিমাণ বাড়ছে। ঋণের সুদ পরিশোধের চাপও বাড়ছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ঋণ-রাজস্ব অনুপাত উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে ১৬.৯২ শতাংশে পৌঁছেছে, যা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সতর্কসীমার কাছাকাছি। একই সময়ে জিডিপির তুলনায় ঋণের পরিমাণও বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৯ শতাংশে। বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ এক বছরে প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে রাজস্ব আয় বাড়েনি। চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসেই রাজস্ব ঘাটতি ছাড়িয়েছে ৬০ হাজার কোটি টাকা। আইএমএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছর শেষে দেশি-বিদেশি ঋণের কিস্তি ও সুদ বাবদ ৩০ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করতে হবে। এই চাপ অর্থনীতিকে আরও দুর্বল করে তুলছে। ব্যাংকিং খাতও সংকটে। ঋণখেলাপি বাড়ছে, সুদহার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা ও স্বচ্ছতার অভাব ব্যবসা পরিবেশকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, খেলাপি ঋণের বোঝা ও উচ্চ সুদহার বিনিয়োগের সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে অর্থনীতিকে টেনে তুলতে হলে পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বসে বেসরকারি খাতের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে হবে এবং তা সমাধানে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে। ব্যাংকঋণের সুদহার কমাতে হবে, গ্যাস-বিদ্যুতের সরবরাহ বাড়াতে হবে। একইসঙ্গে রাজস্ব আয় বাড়ানোর জন্য কর ব্যবস্থায় সংস্কার আনতে হবে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। আমরা আশা করি, নতুন সরকার দ্রুততম সময়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্বাভাবিক করতে উদ্যোগী হবে। সাহসী ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপের মাধ্যমে অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব। জনগণ প্রত্যাশা করছে, সরকার আস্থা ফিরিয়ে এনে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং একটি টেকসই অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ে তুলবে।