বাড়ছে লোডশেডিং শঙ্কা

এফএনএস | প্রকাশ: ৩ মার্চ, ২০২৬, ০৮:২৭ পিএম
বাড়ছে লোডশেডিং শঙ্কা

দেশি-বিদেশি কোম্পানির কাছে বিপুল অঙ্কের বকেয়া নিয়ে বিদ্যুৎ খাতে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে নতুন সরকার। রমজানের পর সেচ ও গ্রীষ্ম মৌসুমে বাড়তি চাহিদা অনুযায়ী নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে পরিকল্পনা থাকলেও অর্থ সংকট, জ্বালানি আমদানি ও বকেয়া পরিশোধের চাপ পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সরকারি হিসাবে বর্তমানে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৩ হাজার মেগাওয়াট। তবে চলতি বছর সর্বোচ্চ চাহিদা ১৮ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা দিচ্ছে বিদ্যুৎ বিভাগ। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে গ্যাস, কয়লা ও তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালিয়ে চাহিদা পূরণ করতে হবে। তিনি বলেন, অর্থ সংস্থান করে তার ভাষায় ‘ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট’ করতে হবে, কারণ বিদ্যুৎ খাত প্রায় আর্থিকভাবে দেউলিয়া অবস্থায় রয়েছে। বিপুল বকেয়া, জ্বালানি আমদানির প্রয়োজন এবং অর্থ সংকট—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিদ্যুৎ খাতে দেশি-বিদেশি কোম্পানির কাছে প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। এর মধ্যে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে যুক্ত বেসরকারি কোম্পানিগুলোর বকেয়া প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা। এসব কোম্পানি গত সাত-আট মাস ধরে বিল পাচ্ছে না বলে জানিয়েছে। রাজধানীতে গরম আসার আগেই কোথাও কোথাও শুরু হয়েছে বিদ্যুতের লুকোচুরি। এখনো অসহনীয় পরিস্থিতি তৈরি না হলেও চলতি মৌসুমে বিদ্যুতের স্বাভাবিক সরবরাহ নিয়ে নানা কারণেই বাড়ছে সংশয়। একে তো গত দুবারের অসহনীয় পরিস্থিতি; অন্যদিকে নানামুখী টানাপোড়েন। নতুন সরকারকে অবশ্যই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সংকট এবং অব্যবস্থাপনা থেকে বের করে আনতে হবে। এ জন্য দীর্ঘমেয়াদি নীতি ও পরিকল্পনা নিতে হবে। স্থল ও সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর বিকল্প নেই বলেই আমরা মনে করি। এ ছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকেও বিদ্যুৎ উৎপাদনের হিস্যা বাড়াতে হবে। তবে আশু করণীয় হিসেবে সরকারকে গ্রীষ্ম মৌসুমে চাহিদামতো বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ নিশ্চিত করার বাস্তবম্মত ও কার্যকর পথ খুঁজে বের করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারকে পাকিস্তানুআফগানিস্তান সংঘাত এবং ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাতে নতুন করে জ্বালানির বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয় কি না, সেদিকেও নজর রাখতে হবে।