ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে নতুন মাত্রা, তিন পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক
| আপডেট: ৫ মার্চ, ২০২৬, ১২:০৭ পিএম | প্রকাশ: ৫ মার্চ, ২০২৬, ১২:০৭ পিএম
ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে নতুন মাত্রা, তিন পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ঘিরে চলমান সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। তেহরানের সামরিক ও রাজনৈতিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা অব্যাহত রয়েছে। একই সময়ে ইসরায়েলের দিকে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। পরিস্থিতি আরও জটিল করে লেবানন সীমান্তেও সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে কোনো শর্তেই আত্মসমর্পণ না করার ঘোষণা দিয়েছে হিজবুল্লাহ।

যৌথ বাহিনীর হামলায় ইরানের রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন এলাকায় মাঝেমধ্যেই বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক স্থাপনাগুলোকে নতুন লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। সংঘাত শুরুর পর থেকে দেশটিতে হতাহতের সংখ্যা সাত হাজার ছাড়িয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে পাল্টা জবাব হিসেবে মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে অন্তত ১৯ দফা হামলার দাবি করেছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার উন্নত রাডার ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয়েছে। তবে ইসরায়েল দাবি করেছে, অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে।

সংঘাতের বিস্তার শুধু ইসরায়েলেই সীমাবদ্ধ নেই। ইরান ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে ইরানবিরোধী বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর ওপরও হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। এর ফলে পুরো অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা বাড়ছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (০৫ মার্চ) ভোরে ইসরায়েলের দিকে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। এসব হামলার পর লাখো মানুষকে নিরাপত্তার জন্য বোমা আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিতে হয়। এএফপির প্রতিবেদকরা জেরুজালেমে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পেয়েছেন। তবে ইসরায়েলের জরুরি পরিষেবা সংস্থা জানিয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

বিবিসি বলছে, বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকালে ইসরায়েলের দিকে কয়েক দফা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। গত দুই ঘণ্টার মধ্যে অন্তত তিনবার সতর্ক সংকেত জারি করা হয়। পরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে সাধারণ মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে বের হওয়ার অনুমতি দেয় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।

এদিকে যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুদ্ধে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র শক্ত অবস্থানে রয়েছে। তিনি এটিকে ইরানের বিরুদ্ধে “অসাধারণ অগ্রগতি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে এই যুদ্ধনীতি নিয়ে বিতর্কও বাড়ছে। ডেমোক্রেট নেতা চাক শুমার প্রেসিডেন্টের যুদ্ধ ক্ষমতা সীমিত করতে আইনপ্রণেতাদের পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। যদিও সিনেটে উত্থাপিত একটি প্রস্তাব ৫৩-৪৭ ভোটে নাকচ হয়ে যায়। এর ফলে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিতে কংগ্রেসের অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা থাকছে না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়াও ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে ইরানের হামলার নিন্দা জানিয়েছে সৌদি আরব। দেশটি দাবি করেছে, আল-খারজ শহরের কাছে তিনটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিবেশী আরব দেশগুলোর ওপর ইরানের হামলার তীব্র সমালোচনা করেছেন আরব লিগের মহাসচিব আহমেদ আবুল ঘেইত।

এই সংঘাতের প্রভাব পড়েছে লেবাননেও। দক্ষিণ লেবাননের অন্তত নয়টি শহরে অতিরিক্ত ইসরায়েলি সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। সেখানে হামলায় কয়েকজন হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

তবে ইসরায়েলের চাপ সত্ত্বেও পিছু হটছে না হিজবুল্লাহ। গোষ্ঠীটির প্রধান নাইম কাশেম স্পষ্ট করে বলেছেন, কোনো শর্তেই আত্মসমর্পণের প্রশ্নই ওঠে না।