রাজশাহীতে খাসপুকুর ইজারা নিয়ে গোপন খেলা

এফএনএস (মোঃ আব্দুল বাতেন; গোদাগাড়ী, রাজশাহী) : | প্রকাশ: ৫ মার্চ, ২০২৬, ০১:২৭ পিএম
রাজশাহীতে খাসপুকুর ইজারা নিয়ে গোপন খেলা

সরকারি খাসপুকুর ইজারা ঘিরে গোদাগাড়ী উপজেলা, রাজশাহী-এ হঠাৎ করেই গড়ে উঠেছে ২০টি মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি। অভিযোগ উঠেছে, খাসপুকুরের টেন্ডারে অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দিতেই খুব অল্প সময়ের মধ্যে এসব সমিতিকে নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে। এতে অনিয়ম, জালিয়াতি ও উৎকোচ গ্রহণের অভিযোগ সামনে এসেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২১ থেকে ২৮ জানুয়ারি-এই মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে তড়িঘড়ি করে এসব সমিতির নিবন্ধন সম্পন্ন করা হয়। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এই নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় একাধিক অনিয়ম ঘটেছে এবং এর পেছনে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় ছিল। তিন সদস্যের সিন্ডিকেটের অভিযোগ: অভিযোগে বলা হয়েছে, জেলা সমবায় কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিন ইসলাম , জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক খায়রুল ইসলাম এবং তানোর উপজেলা সমবায় অফিসের অফিস সহকারী মোস্তাফিজুর রহমান- এই তিনজনের সমন্বয়ে একটি সিন্ডিকেট প্রতিটি সমিতির নিবন্ধনের বিপরীতে লাখ টাকা করে উৎকোচ নিয়েছেন। এ বিষয়ে গোদাগাড়ী উপজেলার কাকন দরগাপাড়া এলাকার বাসিন্দা সোলায়মান আলী গত ২৫ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। অভিযোগের অনুলিপি বিভিন্ন সরকারি দপ্তরেও পাঠানো হয়েছে। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, শর্ত লঙ্ঘন ও ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে অন্তত ২০টি সমবায় সমিতিকে নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি সমিতির নিবন্ধন নিয়ে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে, যেমন- হাটপুকুর রাজারামপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড, দিগন্ত মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড, স্বপ্নপল্লী মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড, অনির্বাণ মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড, উদয় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড, রসুলপুর নুন্দাপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড, সাগুয়ান ঘুন্টিঘর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড, সাগুয়ান চৌকিপুকুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড, কাজীপাড়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড। অভিযোগ অনুযায়ী, কোনো কোনো সমিতিতে সদস্য হিসেবে দেখানো ব্যক্তিরা সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দা নন। আবার কোথাও একই ব্যক্তির স্ক্যান করা স্বাক্ষর ব্যবহার করে ২০ সদস্যের আবেদনপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। এমনকি কিছু সমিতির ক্ষেত্রে ভুয়া ঠিকানা ও অস্তিত্বহীন অফিসঘরের তথ্য দেখানোর অভিযোগও রয়েছে। একই সদস্য দিয়ে একাধিক সমিতি: অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সাগুয়ান ঘুন্টিঘর ও সাগুয়ান চৌকিপুকুর নামের দুটি সমিতির ক্ষেত্রে প্রায় একই সদস্য তালিকা ব্যবহার করে একই দিনে নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অনির্বাণ মৎস্যজীবী সমিতির ক্ষেত্রে যে ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে, সেখানে কোনো মৎস্যজীবী সদস্যের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। টেন্ডারের সময়সীমা ঘিরেই তাড়াহুড়ো: সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারি খাসপুকুর ইজারার জন্য অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল ২৯ জানুয়ারি। সেই সময়সীমার আগেই দ্রুতগতিতে এসব সমিতির নিবন্ধন সম্পন্ন করা হয়, যাতে তারা টেন্ডারে অংশ নিতে পারে। রাজশাহী জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক খায়রুল ইসলামের কাছে এসব বিষয়ে জানতে চাইলে, ক্ষিপ্ত হয়ে মুখে অশ্লীন ভাষা ব্যবহার করে কিছু খারাপ মন্তব্য করেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বলে দাবি করেন। তিনি বলেন. এখন তো আর আমি উপজেলা অফিসে চাকরী করি না। যারা উপজেলা অফিস করে সেখান থেকে ফাইল এলে যাচাই-বাছাই করেই নিবন্ধনের কাজ করা হয়। তানোর উপজেলা সমবায় অফিসের অফিস সহকারী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, তিনি একজন নিম্নপদস্থ কর্মচারী এবং নিবন্ধন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন। পুকুর ইজারা সংক্রান্ত অভিযোগও সঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি। এদিকে জেলা সমবায় কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিন ইসলাম বলেন, এসব অভিযোগ বিষয়ে আমি অবগত হয়েছি। যেসব সমিতির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে ইতোমধ্য তদন্ত ও বাতিল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।  সিন্ডিকেট বা উৎকোচ গ্রহণের অভিযোগের বিষয়ে বলেন, অভিযোগ করার জন্য লিখতে হয় তার জন্য লিখা হয়েছে এসবের বিষয়ে  আসলে কোন   সত্যতা নেই বলে জানান।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে