ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অহংকারী ফিরোজ হোসেন। তিনি ভালুকায় নিজেকে একজন নিচক মনের হাই লেভেলের একজন কর্মকর্তা হিসাবে পরিচিতি লাভ করতে সক্ষম হয়েছেন। তার অফিসে সেবা নেয়ার জন্য মানুষ গেলে নিজস্ব দালাল ব্যবতীত অন্য কোন মানুষ ডুকলে তিনি মেজাজ দেখান। ফলে কোন মানুষ তার সাথে সাক্ষাত করার পুর্বে নিজেকে কমপক্ষে ১০ বার প্রস্তুত করে নেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভালুকায় যোগদানের পর থেকে তিনি সাধারন মানুষের কোন কাজ করছেনা। উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কার্যক্রম তদারকিতে উদাসীন থাকায় সাধারণ মানুষ নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। তাছাড়া তার অদক্ষতার কারণে স্মার্ট প্রশাসনিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ভালুকার সাধারন সেবা প্রত্যাশিরা। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন সমস্যা, অভিযোগ ও সেবা প্রত্যাশিরা ইউএনও‘র কাছে গেলে তারা কাঙ্ক্ষিত সেবা পান না। অনেক ক্ষেত্রে তাদের অভিযোগের বিষয়েও নূন্যতম কার্যকর উদ্যোগনা না নেয়ায় হতাশা নিয়ে ফিরছেন উপকারভোগীরা। স্থানীয় কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী অভিযোগ করেন, ইউএনও ফিরোজ হোসেন প্রায়ই সাংবাদিকদের ফোন রিসিভ করেন না এবং বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য চাইলে সাড়া দেন না। এতে প্রশাসনের কার্যক্রম সম্পর্কে সঠিক তথ্য সংগ্রহে বিঘ্ন ঘটছে। তাছাড়া গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত প্রশাসনিক সেবা সাধারণ মানুষের দোরগোরায় পৌছে দেওয়ার অঙ্গিকারকে তিনি অবজ্ঞা করে যাচ্ছেন। সরকারি চাকুরিজীবীদের জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। এখন থেকে সকল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সকাল ৯টার মধ্যে অফিসে উপস্থিত হওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ একটি পরিপত্র জারি করেছে। তবে বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কার্যালয়ে গিয়ে অনেক কর্মকর্তা কর্মচারীকে অনুপস্থিত পাওয়া যায়। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফিরোজ হোসেনের বক্তব্য নিতে গেলে তিনি বক্তব্য দিতে বাধ্য নয় বলে জানান। তাছাড়া তিনি গণমাধ্যমে বক্তব্য দিতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন না। এছাড়াও উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফিরোজ হোসেনের নির্বাচনকালীন সময়ে ১০৭ টি ভোট কেন্দ্রে নিন্ম মানের সিসি টিভি ক্যামেরা কেনার অভিযোগ উঠে। এইচ এ কম্পিউটার থেকে উচ্চ মূল্যে নিন্ম মানের সিসি টিভি ক্যামেরা কেনা হয়। নিন্মমানের সিসি ক্যামেরা কেনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন কয়েকজন স্কুল শিক্ষক। ভালুকা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এস. এম. শাহাজাহান সেলিম বলেন, শিল্পাঞ্চল ভালুকা অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপজেলা। ভালুকার মত একটি উপজেলায় উনার মত অসহযোগীতাপূর্ণ একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা থাকা অত্যান্ত দুঃখজনক ও ভোগান্তির। সাধারণ মানুষের ফোন তো তিনি ধরেনই না গণমাধ্যমকর্মীদের সেইভ করা নাম্বারের ফোনও তিনি ধরেন না। সাধারণ অসহায় মানুষ কোন সমস্যা নিয়ে উনার কাছে গেলে তিনি কোন সমাধানের উদ্যোগ বা ব্যবস্থা নেন না। এতে মানুষ প্রশাসনের প্রতি বিরুপ ধারণা হচ্ছে। স্মার্ট সেবা থেকে মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে। দৈনিক যুগান্তরের সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম জুয়েল বলেন, নিউজের তথ্যের জন্য উনাকে ফোন দিলে তিনি ফোন ধরেননা। অনেক সময় সকালে ফোন দিলে রাতে ফোন ব্যাক করেন। তাছাড়া ‘জনসেবার জন্য প্রশাসন’ স্লোগানের ধারে কাছেও তিনি নাই। দৈনিক কালবেলার সাংবাদিক সাখাওয়াত হোসেন সুমন বলেন, একটি সংবাদের বক্তব্য নেওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফিরোজ হোসেনের কাছে নিউজের বক্তব্য নিতে গেলে তিনি বক্তব্য দিতে অনিহা প্রকাশ করেন। এতে প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। নিউজের তথ্যের প্রয়োজনে উনাকে অসংখ্যবার ফোন দিলেও তিনি ফোন ধরেন না। এতে যথা সময়ে সংবাদ প্রেরণে বিঘ্ন ঘটে। সাইফুল ইসলাম নামের এক ব্যাক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা সাধারণ মানুষ কোন সমস্যা নিয়ে প্রশাসনের কাছে গেলে কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাই না। এতে আমাদের ভালুকার মানুষের দুর্ভোগ হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফিরোজ হোসেনের অফিসে গেলে তিনি গণমাধ্যমে বক্তব্য দিতে বাধ্য নয় বলে জানান। সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়া ও নানা অনিয়মের বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি তিনি বলেন, এসব বিষয়ে তার ঊর্ধ্বতনকর্তৃপক্ষের কাছে জবাব দিবেন। ভালুকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফিরোজ হোসেনের অসহযোগিতা ও অনিয়মের বিষয়ে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রেজা মো. গোলাম মাসুম প্রধানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন স্যারদের অবহিত করা হবে।