নেপালের সাম্প্রতিক জেন-জি আন্দোলনে সরকার পতনের পর অনুষ্ঠিত প্রথম সাধারণ নির্বাচনে বড় ধরনের সাফল্যের পথে এগিয়ে যাচ্ছেন র্যাপার থেকে রাজনীতিক হওয়া বালেন্দ্র শাহ। গণআন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া জেন-জি প্রজন্মের প্রতিনিধিদের দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির (আরএসপি) হয়ে লড়ছেন তিনি। নেপালের নির্বাচনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আরএসপি এখন পর্যন্ত ১৮টি আসনে জয় পেয়েছে এবং আরও ৯৯টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআই এ তথ্য জানিয়েছে।
ওলির ঘাঁটিতেও এগিয়ে বালেন শাহ
এর আগে কাঠমান্ডুর মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করা বালেন শাহ ঝাপা-৫ আসনে বড় ব্যবধানে এগিয়ে আছেন।
এই আসনটি দীর্ঘদিন ধরে চারবারের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। তিনি কমিউনিস্ট পার্টি অফ নেপাল (ইউএমএল) দলের চেয়ারম্যান।
এখন পর্যন্ত গণনা হওয়া ভোটে বালেন শাহ প্রায় ১৫ হাজারের বেশি ভোট পেয়েছেন। অন্যদিকে কেপি শর্মা ওলি পেয়েছেন প্রায় ৩ হাজার ৩০০ ভোট।
জেন-জি ভোটেই উত্থান
বিশ্লেষকদের মতে, বালেন শাহের উত্থানের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে তরুণ ভোটাররা, বিশেষ করে জেনজি প্রজন্ম।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় সাবেক এই র্যাপার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে শক্ত সমর্থন গড়ে তুলেছেন। প্রচলিত রাজনৈতিক নেতৃত্বের সমালোচনা ও প্রতিষ্ঠাবিরোধী বার্তার মাধ্যমে তিনি তরুণদের আকৃষ্ট করতে সক্ষম হন।
এদিকে কাঠমান্ডু-১ আসনে আরএসপি থেকে প্রথম প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন দর্শনা নামে পরিচিত রাঞ্জু নেউপানে।
জেনজি আন্দোলনের পর প্রথম নির্বাচন
গত বছরের জেন-জি নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের পর এটিই নেপালের প্রথম সংসদ নির্বাচন। নির্বাচন কর্মকর্তাদের ধারণা, প্রায় ৬০ শতাংশ ভোটার এই নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য।
নির্বাচন কমিশনের মতে, তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণ নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ‘অভূতপূর্ব’ উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। উন্নত ভোটার সচেতনতা, রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
এই নির্বাচনে মোট প্রায় ১ কোটি ৮৯ লাখ ভোটার ২৭৫ সদস্যের প্রতিনিধি পরিষদ গঠনের জন্য ভোট দিয়েছেন। এর মধ্যে সরাসরি ভোটে ১৬৫ জন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবেন এবং বাকি ১১০ জনকে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে নির্বাচিত করা হবে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর টানা দুই দিনের তীব্র বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেয় জেন–জি প্রজন্মের তরুণরা। সেই আন্দোলনের মুখে তখনকার প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলিকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হতে হয়।