টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে ভারত ও নিউজিল্যান্ড। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে রোববারের ফাইনাল ঘিরে ক্রিকেট বিশ্বে তৈরি হয়েছে তুমুল উত্তেজনা। স্বাগতিক ভারতের সামনে যেমন ঘরের মাঠে ট্রফি জয়ের সুযোগ, তেমনি নিউজিল্যান্ড চাইছে সব হিসাব উল্টে দিয়ে প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের ইতিহাস লিখতে।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিকেট স্টেডিয়াম নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে এক লাখের বেশি দর্শকের উপস্থিতি প্রত্যাশা করা হচ্ছে। মাঠে থাকা দর্শক তো আছেই, টেলিভিশনের পর্দায় চোখ রাখবে কোটি কোটি ভারতীয় সমর্থক। সেই বিশাল প্রত্যাশার চাপ নিয়েই মাঠে নামবে সূর্যকুমার যাদবের দল।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে রুদ্ধশ্বাস জয় পেয়েই ফাইনালে জায়গা করে নেয় ভারত। ২৫৩ রানের বড় সংগ্রহ গড়ার পরও শেষ পর্যন্ত ম্যাচে টানটান উত্তেজনা ছিল। শেষ মুহূর্তে যশপ্রীত বুমরার দুর্দান্ত বোলিংই ভারতের জন্য ফাইনালের দরজা খুলে দেয়। ১৮ বলে ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল ৪৫ রান। সেই সময় ১৮তম ওভারে এসে মাত্র ৬ রান দেন বুমরা। ফলে ৭ রানের জয় পায় ভারত।
সেমিফাইনাল শেষে ভারতীয় অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব বলেন, “চাপ আর স্নায়ুর পরীক্ষা তো থাকবেই। বিশেষ করে নিজের দেশে শিরোপার পথে এগোতে গেলে এটা খুবই স্বাভাবিক। তবে দলের সবাই এই ম্যাচ নিয়ে দারুণ রোমাঞ্চিত।”
তবে ভারতের ফাইনালে ওঠার পথ মোটেও সহজ ছিল না। সুপার এইটে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়ের শঙ্কায় পড়ে যায় দলটি। পরে জিম্বাবুয়েকে বড় ব্যবধানে হারানো এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১৯৪ রান তাড়া করে জয়ের মতো কঠিন ম্যাচ পার হয় তারা।
অন্যদিকে নিউজিল্যান্ড এসেছে দারুণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে। সেমিফাইনালে অপরাজিত দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৯ উইকেটে উড়িয়ে দিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে মিচেল স্যান্টনারের দল। সেই ম্যাচে ফিন অ্যালেন মাত্র ৩৩ বলে ঝড়ো সেঞ্চুরি করে আলোচনায় উঠে আসেন।
অ্যালেনের বিশ্বাস, নিজেদের সেরা খেলাটা খেলতে পারলে যে কাউকে হারানো সম্ভব। তিনি বলেন, “আমরা বেশ ভালো ছন্দে আছি। নিজেদের সেরা ক্রিকেট খেলতে পারলে আমরা যে কাউকে হারাতে পারি।”
কিউই ওপেনার টিম সাইফার্টও পুরো টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক ব্যাটিং করে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে তিনটি ফিফটি করেছেন তিনি। সেমিফাইনালে অ্যালেনের সঙ্গে প্রথম উইকেটে ৯.১ ওভারে ১১৭ রান যোগ করে ম্যাচের ভিত গড়ে দেন। সাইফার্টের ব্যাটিং নিয়ে অ্যালেন বলেন, “সে অবিশ্বাস্য ফর্মে আছে। আমি মূলত তাকে সমর্থন দেওয়ার চেষ্টা করেছি। নন-স্ট্রাইকার প্রান্তে দাঁড়িয়ে যেন গ্যালারির সেরা আসন থেকে তার ব্যাটিং উপভোগ করেছি।”
ফাইনালের আগে আলোচনায় আছে আহমেদাবাদের উইকেটও। ক্রিকেটবিষয়ক ওয়েবসাইট ইএসপিএন ক্রিকইনফো জানিয়েছে, নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামের উইকেটে থাকতে পারে হালকা সবুজ আভা। তবে সেটি পেস সহায়ক হলেও ব্যাটসম্যানদের জন্যও যথেষ্ট সহায়ক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
লাল ও কালো মাটির মিশ্রণে তৈরি এই উইকেটে বলের গতি ও বাউন্স ভালো থাকার কথা। বল খুব বেশি থেমে আসবে না, অসম বাউন্সও দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা কম। ফলে চার-ছক্কার বৃষ্টিতে রানের জোয়ার দেখা যেতে পারে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
এই পিচে দুইশ রানকে ধরা হচ্ছে সম্ভাব্য ‘পার’ স্কোর হিসেবে। এবারের বিশ্বকাপে এই উইকেটে খেলা একমাত্র ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা ২০ ওভারে করেছিল ২১৩ রান।
ফাইনাল বলে আলাদা করে কোনো ফেভারিট থাকে না। তবে ঘরের মাঠ, দর্শকের সমর্থন এবং সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিবেচনায় ভারতকে কিছুটা এগিয়ে রাখছেন অনেকেই। এর আগে গত বছর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালেও নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল ভারত।
তবু ক্রিকেটে অঘটন নতুন কিছু নয়। আগুনে ফর্মে থাকা নিউজিল্যান্ডের ওপেনিং জুটি আর ভারতের বোলিং আক্রমণের লড়াইই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করতে পারে নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়নকে।