টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনাল ঘিরে উইকেট নিয়েই কৌশল সাজাচ্ছে ভারত। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শিরোপা লড়াইয়ের আগে আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে মিশ্র মাটির উইকেট তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে। এতে লাল মাটির অংশ বেশি থাকবে, যা ব্যাটসম্যানদের জন্য সহায়ক হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ক্রিকেটবিষয়ক ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফো এবং দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফাইনালের উইকেট লাল ও কালো মাটির মিশ্রণে তৈরি করা হবে। তবে লাল মাটির অনুপাত বেশি থাকবে। এতে বল ব্যাটে সহজে আসে এবং ভালো বাউন্স পাওয়া যায়। ফলে পেসাররা কিছু সুবিধা পেলেও সবচেয়ে বেশি সুবিধা পেতে পারেন ব্যাটসম্যানরা।
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে একটি সূত্র জানিয়েছে, “ফাইনালের জন্য নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে ভারতীয় দলকে মিশ্র মাটির পিচ দেওয়া হবে। এটি একটি স্পোর্টিং পিচ হবে, যেখানে কেউ অতিরিক্ত সুবিধা পাবে না।”
সূত্রটি আরও জানিয়েছে, “লাল মাটির অংশ বেশি থাকলে কিছুটা বাউন্স থাকবে এবং ব্যাটসম্যানরাও স্বাচ্ছন্দ্যে খেলতে পারবে।”
এই সিদ্ধান্তের পেছনে অতীতের অভিজ্ঞতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালও হয়েছিল এই একই স্টেডিয়ামে। তখন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কালো মাটির উইকেট তৈরি করেছিল ভারত। কিন্তু সেই কৌশল কাজে আসেনি। একপেশে লড়াইয়ে শিরোপা জিতে নেয় অস্ট্রেলিয়া।
চলতি টুর্নামেন্টেও এই মাঠে মিশ্র অভিজ্ঞতা হয়েছে ভারতের। ১৮ ফেব্রুয়ারি নেদারল্যান্ডসকে ১৭ রানে হারালেও ২২ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ আফ্রিকার ১৮৭ রান তাড়া করতে গিয়ে ৭৬ রানে হেরে যায় তারা। সেই অভিজ্ঞতাও এবার পিচ কৌশলে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই ফাইনালের জন্য নির্ধারিত উইকেটটি তুলনামূলকভাবে নতুন। সর্বশেষ ৯ ফেব্রুয়ারি এই পিচে দক্ষিণ আফ্রিকা ও কানাডার ম্যাচ হয়েছিল। সেই ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা ৫ উইকেটে ২১৩ রান তুলে ৫৩ রানে জয় পেয়েছিল।
টুর্নামেন্টে নিউজিল্যান্ড আহমেদাবাদে মাত্র একটি ম্যাচ খেলেছে। ১৪ ফেব্রুয়ারি লাল মাটির পিচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৭ উইকেটে হেরে যায় কিউইরা।
অন্যদিকে ভারতের টিম ম্যানেজমেন্ট লিগ পর্বের কয়েকটি পিচ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল। স্থানীয় কিউরেটরদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলতেও বোর্ডের পক্ষ থেকে স্টাফ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।
ফাইনালের আগে আহমেদাবাদে শেষ অনুশীলনে নামার কথা রয়েছে ভারতীয় দলের। ম্যাচের আগে উইকেটের আচরণ এখন আলোচনার বড় বিষয় হয়ে উঠেছে।
সূত্র বলছে, ব্যাটসম্যানদের জন্য সহায়ক এই পিচে ফাইনালেও ২০০ রানের বেশি স্কোর দেখা যেতে পারে।