আন্তর্জাতিক নারী দিবসে এক সংগ্রামী নারীর গল্প

স্বামীর সংসার ছাড়ার পরও হার মানেনি শান্তা, নিজের দোকানেই এখন স্বাবলম্বী

এফএনএস (মো: সজিব ইসলাম; চারঘাট, রাজশাহী) : | প্রকাশ: ৮ মার্চ, ২০২৬, ০২:৫৪ পিএম
স্বামীর সংসার ছাড়ার পরও হার মানেনি শান্তা, নিজের দোকানেই এখন স্বাবলম্বী

জীবনের কঠিন বাস্তবতা আর নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও হার মানেননি রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার শলুয়া ইউনিয়নের এক নারী। স্বামীর সংসার ভেঙে যাওয়ার পর নতুন করে জীবন শুরু করে এখন নিজের পরিশ্রমে স্বাবলম্বী হয়েছেন মোছাঃ শান্তা খাতুন (২৬)। শান্তা খাতুন চারঘাট উপজেলার শলুয়া ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা রফিকুল ইসলাম পেশায় একজন ভ্যানচালক। সীমিত আয়ের পরিবারে বড় হলেও ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনা ও নিজের স্বপ্ন পূরণের ইচ্ছা ছিল তার। জানা যায়, পড়াশোনা চলাকালীন সময়েই শান্তার বিয়ে হয়। তবে বিয়ের কিছুদিন পরই পারিবারিক সমস্যার কারণে তার দাম্পত্য জীবন ভেঙে যায়। সংসার ভেঙে যাওয়ার পর শুরুতে তাকে নানা কষ্ট ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে সময় পার করতে হয়। কিন্তু ভেঙে না পড়ে নতুন করে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর দৃঢ় সিদ্ধান্ত নেন তিনি। পরে শলুয়া পোস্ট অফিসে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন শান্তা। প্রশিক্ষণ শেষে সাহস নিয়ে শলুয়া ইউনিয়ন পরিষদের সামনে একটি ছোট কম্পিউটার ও ফটোকপির দোকান চালু করেন। বর্তমানে তার দোকানে কম্পিউটার টাইপিং, ফটোকপি, লেমিনেটিংসহ বিভিন্ন অনলাইন সেবার কাজ করা হয়। দোকানের সব কাজই একাই সামলান তিনি। প্রতিদিন বিভিন্ন প্রয়োজনে স্থানীয় মানুষ তার দোকানে এসে সেবা নিচ্ছেন। ব্যবসার পাশাপাশি নিজের পড়াশোনাও চালিয়ে যাচ্ছেন শান্তা। তিনি বর্তমানে দুর্গাপুর ডিগ্রি কলেজে প্রথম বর্ষে অধ্যয়নরত। জীবনের কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও পড়াশোনা বন্ধ না করে ভবিষ্যতের জন্য নিজেকে গড়ে তুলতে চেষ্টা করছেন। শান্তা খাতুন বলেন, “সংসার ভেঙে যাওয়ার পর শুরুতে অনেক কষ্ট আর সামাজিক বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। কিন্তু হাল ছাড়িনি। নিজের ওপর বিশ্বাস রেখে পরিশ্রম করে এই ছোট ব্যবসা শুরু করেছি। পাশাপাশি পড়াশোনাও চালিয়ে যাচ্ছি। আমি বিশ্বাস করি, সুযোগ ও সাহস পেলে নারীরাও প্রতিকূলতা জয় করে স্বাবলম্বী হতে পারে।” স্থানীয়রা জানান, শুরুতে নানা বাধা থাকলেও এখন শান্তার দোকান এলাকায় বেশ পরিচিত হয়ে উঠেছে। নিজের পরিশ্রম ও দৃঢ় মনোবলের মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছেন, ইচ্ছাশক্তি থাকলে প্রতিকূলতার মধ্যেও এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। শলুয়া ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মোঃ রেজাউল করিম বলেন, “শান্তা আমাদের এলাকার জন্য অনুপ্রেরণার একটি উদাহরণ। ব্যক্তিগত জীবনের নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে সে নিজের উদ্যোগে কাজ শুরু করেছে এবং স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করছে। পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া তার দৃঢ় মনোবলের পরিচয় দেয়। তার মতো নারীরা এগিয়ে এলে সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন আরও শক্তিশালী হবে।” চারঘাট উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রাশেদা পারভীন বলেন, “আন্তর্জাতিক নারী দিবসে শান্তার এই সংগ্রামী জীবনগাথা এলাকার অন্য নারীদের জন্য সাহস ও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠতে পারে। নারীরা চাইলে নিজের সামর্থ্য ও উদ্যোগ দিয়ে সমাজে সম্মানের সঙ্গে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।”

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে