দুর্গাপুরের কবিতা দত্তের এগিয়ে চলার সংগ্রাম

এফএনএস (এস.এম রফিকুল ইসলাম; দুর্গাপুর, নেত্রকোনা) : | প্রকাশ: ৮ মার্চ, ২০২৬, ০৪:৩২ পিএম
দুর্গাপুরের কবিতা দত্তের এগিয়ে চলার সংগ্রাম

সংসারের দায় আর নানা বাধা পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে চলার নামই সংগ্রাম। তেমনই এক সংগ্রামী নারীর নাম কবিতা দত্ত (৫০)। যিনি গত ১৮ বছর ধরে এক হাতে দোকান, অন্য হাতে সংসার সামলে জীবন লড়াই করে যাচ্ছেন। নেত্রকোনার দুর্গাপুর পৌর এলাকার ঐতিহ্যবাহী শিবগঞ্জ বাজারে বিশাল দোকান পরিচালনা করে আসছেন তিনি। অনুসন্ধানে জানা যায়,২০০১ সালে ‘মেসার্স দত্ত ট্রেডার্স’ নামে ব্যবসা শুরু করেন তার স্বামী গোবিন্দ দত্ত। যেখানে রড, সিমেন্টসহ নানা নির্মাণ সামগ্রী বেচা হয়। কিন্তু ২০০৮ সালে হঠাৎ হৃদরোগে তার মৃত্যু হলে পরিবারে নেমে আসে অন্ধকার। সংসারের হাল ধরার মতো কেউ না থাকায় তিন সন্তানদের নিয়ে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হন কবিতা দত্ত। পরিবারের নানা বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে তখন থেকেই দোকান ও সংসারের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন তিনি। কবিতা দত্ত প্রতিবেদক’কে বলেন, শুরুতে দোকান সামলানো ছিল আমার কাছে ভয়ের। স্বজনদের কাছ থেকে শুনতে হয়েছে নানা কটুক্তি, পেতে হয়েছে বাধাও। কিন্তু লড়াই করা আর সন্তানদের ভবিষ্যতের চিন্তা করেই নিজেকে কঠিন করে তুলি। তিনি আরও বলেন, স্বামীর মৃত্যুর সময় বড় মেয়ের বয়স ছিল ১০ বছর, ছেলের ৬ বছর আর ছোট মেয়ের মাত্র আড়াই বছর। তখন পরিবারের সব বাধাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলাম। তাদের সেই বাধাই আমাকে আরও কঠিন থেকে কঠিনতর করে তুলেছিল। ভবিষ্যতের কথা ভেবেই পথচলা শুরু করি। আজ আমি সফল। বড় মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি, ছেলে পড়াশোনার পাশাপাশি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছে। ছোট মেয়ে এখনও পড়াশোনা করছে। কবিতা দত্ত বলেন, এখন প্রতিদিন সকাল ৫টায় ঘুম থেকে উঠি। রান্না-বান্না শেষ করে সাড়ে আটটার দিকে দোকান খুলে বসি। বেচাকেনা, হিসাব সবকিছুই প্রায় একাই সামলাই। আমাকে সহযোগিতা করার জন্য একজন দাদা আছেন, তারপরও কখনো কখনো নিজেকেই কাজে হাত লাগাতে হয়। এসবের ফাঁকে আবার বাসায় গিয়ে ঘরের কাজও করি। কবিতা দত্তের ছোট মেয়ে জয়াবতী দত্ত বলেন, ছোটবেলায় আমার বাবা মারা যান। তারপর থেকেই আমাদের পরিবারের সব দায়িত্ব আমার মায়ের ওপর। বাবার আদর আর মায়ের ভালোবাসা দুটোই আমরা মায়ের কাছ থেকেই পেয়েছি। ক্রেতা, বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের কাছেও কবিতা দত্ত এখন এক গর্বের নাম। তার সাহস ও সংগ্রামের গল্পে প্রশংসায় পঞ্চমুখ সবাই। স্থানীয় বাসিন্দা সুমন খান বলেন, একজন নারী হিসেবে এত প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি যেভাবে স্বামীর ব্যবসাকে ধরে রেখেছেন ও পরিবার সামলেছেন, তা অনেকের জন্যই অনুপ্রেরণার।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে