চাহিদার তুলনা কম বরাদ্দে ব্যাহত হচ্ছে গ্রামীণ সড়ক মেরামত কার্যক্রম। দেশের পাকা সড়ক নেটওয়ার্কের প্রায় এক লাখ ৩২ হাজার কিলোমিটার সড়ক নিয়মিত, সময়ান্তর ও পুনর্বাসন রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন। কিন্তু সেক্ষেত্রে মাত্র তিন হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। যা মোট চাহিদার মাত্র ১৫ শতাংশ। ফলে বন্যা, দীর্ঘমেয়াদি অতিবৃষ্টি এবং আগের বছরের বকেয়া কাজ মিলিয়ে গ্রামীণ সড়ক মেরামত পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠেছে। চলতি অর্থবছরও গ্রামীণ সড়ক মেরামতের জন্য চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ অত্যন্ত কম উল্লেখ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)অতিরিক্ত ৭০০ কোটি টাকা চেয়েছে। চলতি অর্থবছরের অনুন্নয়ন বাজেটে এলজিইডির ‘মেরামত ও সংরক্ষণ’ মঞ্জুরি খাতের আওতায় ‘গ্রামীণ সড়ক’ উপখাতে অতিরিক্ত ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগে চিঠি দিয়েছে। এলজিইডি সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সারাদেশে এলজিইডির আওতায় বিভিন্ন শ্রেণির সড়ক রয়েছে প্রায় চার লাখ ১১ হাজার কিলোমিটার। তার মধ্যে প্রায় এক লাখ ৬৭ হাজার ৪০০ কিলোমিটার পাকা সড়ক। আর প্রতিবছর বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৫ হাজার কিলোমিটার নতুন পাকা সড়ক নেটওয়ার্কে যুক্ত হচ্ছে। তাতে ক্রমাগত বাড়ছে রক্ষণাবেক্ষণের চাপ। পাকা সড়ক নেটওয়ার্কের মধ্যে প্রায় এক লাখ ৩২ হাজার কিলোমিটার সড়ক নিয়মিত, সময়ান্তর ও পুনর্বাসন রক্ষণাবেক্ষণ করা প্রয়োজন হয়। সেজন্য চাহিদা নিরূপণ করা হয়েছে মোট ২১ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু চলতি অর্থবছরে ‘গ্রামীণ সড়ক’ উপখাতে মাত্র তিন হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। যা নিরূপিত চাহিদার মাত্র ১৫ শতাংশ। আর ওই বরাদ্দ দিয়ে গ্রামীণ রাস্তা সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখা কঠিন।
সূত্র জানায়, বিগত ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে আকস্মিক বন্যায় দেশের ১১টি জেলার সড়ক নেটওয়ার্ক ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলো হলো ফেনী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, নোয়াখালী, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সিলেট, লক্ষ্ণীপুর ও কক্সবাজার। কিন্তু ওসব জেলার ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও অবকাঠামো পুনর্বাসনের জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। তাছাড়া ২০২৫ সালের মে মাস থেকে নভেম্বর পর্যন্ত টানা সাত মাসের অতিবৃষ্টির কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আগে ওই ধরনের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষয়ক্ষতির নজির ছিলো না। দীর্ঘসময় পানি জমে থাকা, সড়কের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়া এবং পিচ উঠে যাওয়ার কারণে বহু সড়ক চলাচলের অনুপযোগী পড়ে।
সূত্র আরো জানায়, সড়ক মেরামতে প্রতিবছর পর্যাপ্ত বরাদ্দ না পাওয়ায় আগের বছরের রক্ষণাবেক্ষণের বকেয়া কাজ থেকে যাচ্ছে। পাশাপাশি নতুন সড়ক যুক্ত হওয়ার ফলে রক্ষণাবেক্ষণের আওতাও বাড়ছে। কিন্তু ওই অনুপাতে বরাদ্দ বাড়ছে না। ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সারাদেশে নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে বিশেষ সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। সেজন্য জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ খাতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে। যা বিদ্যমান বরাদ্দের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে। এমন পরিস্থিতিতে গ্রামীণ রাস্তাঘাটের ন্যূনতম রক্ষণাবেক্ষণ চাহিদা পূরণ এবং চলমান ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় চলতি অর্থবছরের অনুন্নয়ন বাজেটের আওতায় ‘গ্রামীণ সড়ক’ উপখাতে অতিরিক্ত বরাদ্দ জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে এ বিষয়ে এলজিইডির সহকারী প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মাদ আবুল কালাম আজাদ জানান, গ্রামীণ সড়ক মেরামতে চাহিদা অনেক বেশি হওয়া সত্ত্বেও ওই খাতে বরাদ্দ কম। আর কম বরাদ্দ দিয়ে ওই সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই ন্যূনতম প্রয়োজন মেটাতে বাড়তি ৭০০ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে।