ফেসবুকে মিথ্যা অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

এম এম মামুন; রাজশাহী | প্রকাশ: ৯ মার্চ, ২০২৬, ০২:৫০ পিএম
ফেসবুকে মিথ্যা অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ষড়যন্ত্রমূলক অপপ্রচারের প্রতিবাদে রাজশাহী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নওহাটা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও রাজশাহী জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক মাসুদ পারভেজ সুভন। সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে রাজশাহী প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অপপ্রচারের প্রতিবাদ জানান এবং প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মাসুদ পারভেজ সুভন বলেন, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে গিয়াস উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পোস্ট করেছেন। ওই পোস্টে দাবি করা হয়, নওহাটা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলনের ছবি নামিয়ে তার ছবি টাঙানো হয়েছে। তিনি বলেন, এ তথ্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি জানান, গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তিনি নিজ গ্রাম নওহাটা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বরই কুড়িগ্রামে অবস্থান করছিলেন। এ সময় তার কিছু শুভাকাঙ্ক্ষী ঈদ শুভেচ্ছা সংবলিত পোস্টার এলাকায় টাঙাচ্ছিলেন। সেই সময় তার একটি পার্সেল আসার কথা থাকায় তিনি গ্রামেই অবস্থান করছিলেন। পরে পার্সেল আসতে দেরি হওয়ায় তিনি গ্রামের বাসিন্দা ও পেশায় অটোভ্যান চালক দুলাল হোসেনের সাথে কিছুটা দূরে হাঁটতে যান। মাসুদ পারভেজ সুভন বলেন, ওই সময় এক মহিলা সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলনের একটি পোস্টার চেয়ে জানান যে, তিনি সেটি নিজের ঘরে টাঙিয়ে রাখতে চান। তখন নতুন কোনো পোস্টার না থাকায় নির্বাচনী প্রচারণার একটি পোস্টার তাকে দেওয়া হয়। পরে তার সঙ্গে থাকা মিনহাজের মাধ্যমে পোস্টারটি ওই মহিলার বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। এরপর তিনি ব্যক্তিগত কাজে রাজশাহী শহরে চলে আসেন। তিনি আরও বলেন, পরদিন শুক্রবার (৬ মার্চ) সকালে কয়েকজন তাকে ফোন করে জানান যে, গিয়াস উদ্দিন তার ফেসবুক আইডি থেকে বিভ্রান্তিকর পোস্ট দিয়েছেন। বিষয়টি জানার পর তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে গিয়াস উদ্দিনকে খোঁজার চেষ্টা করলেও তিনি দ্রুত সেখান থেকে চলে যান। এ ধরনের মিথ্যা তথ্য প্রচারের মাধ্যমে তার ব্যক্তিগত সুনাম, রাজনৈতিক ভাবমূর্তি এবং সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ২০০৭ সাল থেকে ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এবং বর্তমানে যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। ২০১৮ সালে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেন এবং ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি নওহাটা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচনে বিজয়ী হন। রাজনৈতিক কারণে ২০২৪ সালে তাকে ৭৪ দিন কারাবরণও করতে হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ সময় তিনি দাবি করেন, গিয়াস উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছেন এবং অনেকের জমি জোরপূর্বক দখল করে রেখেছেন বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ রয়েছে। এমনকি তার নিজের জমিও গিয়াস উদ্দিন দখল করে রেখেছেন বলে তিনি দাবি করেন। এছাড়া গ্রামের একটি ২৬ ফুট রাস্তার নির্মাণকাজও তিনি প্রায় ২৫ দিন ধরে বন্ধ করে রেখেছেন বলে অভিযোগ করেন সুভন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে গিয়াস উদ্দিন বলেন, তিনি ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছিলেন, তবে পরে পারিবারিক চাপে সেটি ডিলিট করে দেন। তিনি জানান, ফজরের নামাজের পর ওই এলাকায় হাঁটতে গিয়ে তিনি অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন এমপির একটি নির্বাচনী প্রচারণার ফেস্টুন মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন। আর তার উপরে পারভেজ সুভনের ঈদের শুভেচ্ছা সংবলিত ফেস্টুন ঝুলতে দেখে তিনি ছবি তুলে ফেসবুকে শেয়ার করেন। তিনি আরও বলেন, একজন বিএনপির কর্মী হিসেবে বিষয়টি দেখে তিনি কষ্ট পেয়েছিলেন বলেই ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলেন, তবে পরে সেটি মুছে ফেলেন। সবশেষে মাসুদ পারভেজ সুভন প্রশাসনের কাছে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর প্রচার বন্ধ করা এবং গুজব ছড়ানোর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। একই সঙ্গে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে তিনি আশা প্রকাশ করেন, গণমাধ্যমকর্মীরা প্রকৃত ঘটনা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরবেন এবং সত্য প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা করবেন।
আপনার জেলার সংবাদ পড়তে