বিষ্ণুপদ ও মানিক হত্যার বিচার না হওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ সিপিবি-এর

প্রেস বিজ্ঞপ্তি | প্রকাশ: ৯ মার্চ, ২০২৬, ০৮:২০ পিএম
বিষ্ণুপদ ও মানিক হত্যার বিচার না হওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ সিপিবি-এর

১৯৭৩ সালে গোপালগঞ্জের বহুল আলোচিত চার মুক্তিযোদ্ধা মুক্তিযুদ্ধের ৮ ও ৯নং সেক্টরের কমান্ডার ও কমিউনিস্ট পার্টি-ন্যাপ ছাত্র ইউনিয়নের গেরিলা বাহিনীর প্রধান সমন্বয়কারী ওয়ালিউর রহমান লেবু, ন্যাপ নেতা কমলেশ বেদজ্ঞ, ছাত্র ইউনিয়ন নেতা বিষ্ণুপদ ও মানিক হত্যার বিচার না হওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট (সিপিবি)। সোমবার ৯ মার্চ ২০২৬, সোমবার প্রদত্ত এক বিবৃতিতে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন অবিলম্বে কমরেড লেবু-কমলেশ-বিষ্ণু-মানিক হত্যার বিচার এবং হত্যাকারীদের শাস্তি দাবি করেন। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পর পর গোপালগঞ্জের জনপ্রিয় কমিউনিস্ট ও বামপন্থীদের হত্যার বিচার না হওয়ায় পরবর্তীতে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড থামেনি। তৎকালীন সরকারের ছত্রছায়ায় হত্যাকারীরা লালিত-পালিত হয়েছে। এমনকি তাদের পুরস্কৃতও করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, দীর্ঘ ৫৩ বছরেও গোপালগঞ্জের চার বীর মুক্তিযোদ্ধা হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হয়নি। আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় উচ্চ আদালতের মাধ্যমে অন্ততঃ ছয়বার মামলা স্থগিত করেছে। ফলে মামলাটি এখন উচ্চ আদালতে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে ৮ ও ৯ নং সেক্টরে গেরিলা বাহিনীর প্রধান সমন্বয়কারী ওয়ালিউর রহমান লেবু, ন্যাপ নেতা কমলেশ বেদজ্ঞ, ছাত্রনেতা বিষ্ণুপদ ও মানিককে ১৯৭৩ সালের ১০ মার্চ কোটালীপাড়ার টুপরিয়া ব্রিজের কাছে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৩ সালে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ন্যাপ নেতা কমলেশ বেদজ্ঞ কোটালীপাড়া আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনী কাজ শেষে ১০ মার্চ সকালে উপজেলার সিকির বাজার থেকে নৌকায় করে গোপালগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা হন। নৌকাটি টুপরিয়া ব্রিজের কাছে পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা ওয়ালিউর রহমান লেবু, ন্যাপ নেতা কমলেশ বেদজ্ঞ, ছাত্রনেতা বিষ্ণুপদ ও মানিককে রামদা, কোদাল, লোহার রড, ছ্যানি দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে। এ সময় তাদের সঙ্গে থাকা সাবেক ছাত্র ইউনিয়ন নেতা লুৎফর রহমান গঞ্জরকে মৃত ভেবে ফেলে যায়। ওই ঘটনার পরদিন ১১ মার্চ তৎকালীন প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট মো. আব্দুল কাদেরের কাছে দেয়া লুৎফর রহমানের জবানবন্দি অনুযায়ী গোপালগঞ্জ থানায় একটি মামলা হয় (মামলা নং-০৫, তাং-১১-০৩-৭৩, জিআর নং-৯৬/৭৩)। মামলায় মুক্তিযুদ্ধের হেমায়েত বাহিনী প্রধান প্রায়ত হেমায়েত উদ্দিন বীর বীক্রমসহ ২৩ জনকে আসামি করা হয়। মামলার বাদী লুৎফর রহমান গঞ্জরের কোনো তৎপরতা না থাকায় তার পরিবর্তে কমলেশ বেদজ্ঞর কন্যা নারী নেত্রী সুতপা বেদজ্ঞ বাদী হতে আবেদন করেন। পরে সুপ্রিম কোর্ট আবেদন মঞ্জুর এবং হাইকোর্টের দেয়া স্থাগিতাদেশ খারিজ করায় মামলাটি আবারো গোপালগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে রয়েছে। কিন্তু এখনও রায় প্রদান করা হয়নি। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে এই বিচার সম্পন্ন করার দাবি জানান। নেতৃবৃন্দ ক্ষোভের সাথে বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর কোটালীপাড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ আহবায়ক কমিটির আহবায়ক করা হয়েছে ‘লেবু-কমলেশ-বিষ্ণু-মানিক’-এর হত্যাকাণ্ডের ৩ নম্বর আসামি আবুল কালাম দাড়িয়াকে। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে কোটালীপাড়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদ আহবায়ক কমিটি ভেঙ্গে দেওয়ার দাবি জানান।