অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আজ সোমবার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বললেন, “বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ও সম্ভাব্য সংকট বিবেচনায় রেখে সরকার দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নির্ধারণ করছে। ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক প্রক্ষেপণ ও সরকারি কর্মসূচিগুলোও সেই বাস্তবতা মাথায় রেখেই পরিচালিত হবে।”
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “বিশ্বে যে ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, বিশেষ করে যুদ্ধের কারণে যে অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হতে পারে, তা আমরা বিবেচনায় নিচ্ছি। সেই বাস্তবতা মাথায় রেখেই সরকারের সার্বিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে দেশের অর্থনৈতিক প্রক্ষেপণ নির্ধারণের ক্ষেত্রেও বৈশ্বিক পরিস্থিতিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যয় ও কর্মসূচি সমন্বয় করা হবে।”
আরেক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। এজন্য প্রয়োজন অনুযায়ী আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গেও আলোচনা চলছে।
‘জ্বালানি নিরাপত্তা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই যেখানেই সুযোগ আছে, সেখানেই আমরা সহযোগিতা চাইছি, কথা বলছি, কাজ করে যাচ্ছি,’ উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
বেকারদের চাকরি না দিয়ে ভাতা দেওয়ার মাধ্যমে মানুষকে আরও বেকার বানানো হচ্ছে কি না- এমন প্রশ্নের উত্তরে আমির খসরু বলেন, দেশে বেকারত্ব সমস্যা মোকাবিলা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য সরকার এরই মধ্যে বড় পরিসরে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে এবং দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়ানোর উদ্যোগ চলছে। যেই পরিবারে বেকার আছে, সেই পরিবারের কাছেও টাকা যাচ্ছে। সেই পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা বাড়লে, তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে। আর বেকার সমস্যার জন্য তো সরকারের বিশাল কর্মসূচি আছেই।
তিনি জানান, সরকার কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকায় দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে। পাশাপাশি শ্রমবাজার সম্প্রসারণ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু হলে বর্তমানে চলমান সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলো বন্ধ হয়ে যাবে কি না- সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রশ্নের উত্তরে সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেন, যে পরিবারে নারীপ্রধান যদি কোনো ভাতা পেয়ে থাকেন, তবে ফ্যামিলি কার্ড চালু হলে শুধু সেই নির্দিষ্ট ভাতাটি বন্ধ হবে। তবে টিসিবির মাধ্যমে পণ্য সহায়তা, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি বা অন্যান্য সামাজিক সুরক্ষা ভাতা বন্ধ করার কোনো পরিকল্পনা নেই।