১ কোটি টাকা ঘুষ দাবির অডিও ফাঁস, প্রসিকিউটরদের সতর্ক করলেন চিফ প্রসিকিউটর

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ১০ মার্চ, ২০২৬, ০১:২২ পিএম
১ কোটি টাকা ঘুষ দাবির অডিও ফাঁস, প্রসিকিউটরদের সতর্ক করলেন চিফ প্রসিকিউটর

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এক প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে এক কোটি টাকা ঘুষ দাবির অডিও ফাঁসের ঘটনায় প্রসিকিউশন টিমকে সতর্ক করেছেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, দায়িত্ব পালনের সময় কোনো প্রসিকিউটর বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অনিয়ম কিংবা দুর্নীতিতে জড়িত থাকলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এ বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে চিফ প্রসিকিউটরের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন। বৈঠকটি সকাল সাড়ে ৯টায় শুরু হয় এবং সেখানে প্রসিকিউশন টিমের সদস্যদের উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।

এই আলোচনা শুরু হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর মো. সাইমুম রেজা তালুকদারের বিরুদ্ধে ওঠা ঘুষ দাবির অভিযোগকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ উঠেছে, চট্টগ্রামের রাউজান আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীকে মামলায় খালাস পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তার পরিবারের কাছে এক কোটি টাকা দাবি করেছিলেন তিনি। সোমবার (৯ মার্চ) এ সংক্রান্ত দুটি কথিত অডিও ক্লিপ ফাঁস হলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

ফাঁস হওয়া অডিওতে আর্থিক লেনদেনের পাশাপাশি মামলার বিষয়ে তদবির ও প্রসিকিউশন টিমের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া নিয়ে কথাবার্তা শোনা যায় বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। কথোপকথনে এক কোটি টাকা দাবি এবং ১০ লাখ টাকা অগ্রিম নেওয়ার প্রসঙ্গও উঠে এসেছে বলে জানা গেছে।

তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন সাইমুম রেজা তালুকদার। মঙ্গলবার রাত ৯টা ৫ মিনিটে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি দাবি করেন, অডিওগুলো মিথ্যা এবং এটি একটি মহলের অপপ্রচার। তিনি বলেন, “একজন প্রসিকিউটরের পক্ষে কোনো মামলায় কাউকে বিশেষ সুবিধা পাইয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। আদালত স্বাধীনভাবে শুনানি ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত দেয়।”

এর আগে অভিযোগ ওঠার পর সোমবার (৯ মার্চ) তিনি পদত্যাগ করলে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। পদত্যাগের বিষয়ে সাইমুম রেজা জানান, তিনি তার আগের কর্মস্থল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা এবং গবেষণায় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এদিকে ডিজিটাল প্রমাণের বিষয়টি যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে এসেছে। ট্রাইব্যুনালের আরেক প্রসিকিউটর ও সাইবার বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা বলেন, “অডিওগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি কি না, তা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে পরীক্ষা করা হয়নি। তবে কথোপকথনের বাচনভঙ্গি ও শ্বাসপ্রশ্বাস বিশ্লেষণে এটি এআই জেনারেটেড না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।”

তিনি আরও জানান, পূর্ণাঙ্গ ভয়েস স্যাম্পল, আইপিডিআর এবং সিডিআর বিশ্লেষণের মাধ্যমে ডিজিটাল ফরেনসিক তদন্ত করা হলে অডিওর সত্যতা এবং কথোপকথনের প্রকৃত উৎস নিশ্চিতভাবে জানা সম্ভব হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে