ভালুকায় নদীগুলো দখল-দূষণসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত

এফএনএস (মোঃ আলমগীর হোসেন; ভালুকা, ময়মনসিংহ) :
| আপডেট: ১০ মার্চ, ২০২৬, ০৩:৫৩ পিএম | প্রকাশ: ১০ মার্চ, ২০২৬, ০৩:৫৩ পিএম
ভালুকায় নদীগুলো দখল-দূষণসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত

ভালুকায় নদীগুলো দখল-দূষণসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত। ভালুকায় শিল্প এলাকায় হওয়ায় খীরু ও সুতিয়া নদী সহ খালগুলো দুষনের অন্যতম দায়ী প্লাস্টিক। বিশেষ করে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক সবচেয়ে বেশি দূষণ করছে নদীকে। দূষণের কারণে নদী হারিয়েছে তার চিরচেনা রূপ। পাশাপাশি দখল আর ভরাটের কারণেও কমে যাচ্ছে নদীর পরিধি। নদীগুলো তার নাব্যতা হারিয়ে মৃত প্রায়। 

এক সময় ভালুকার খীরু ও সুতিয়া নদী ছিল ব্যবসা বাণিজ্যের কেন্দ্র। নদীর নাব্যতা কমে যাওয়া ও দখলদারদের ভরাটের কারনে নদী হারিয়েছে তার প্রবাহ। নদী ভরাটের কারনে নদী পথ সুরু হয়ে পড়েছে। অতীতে মানুষ যাতায়াত করতো নদী পথে। সবচেয়ে মারাত্মক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে শিল্পবর্জ্য। বিষাক্ত সব রাসায়নিক এবং প্লাস্টিক ও পলিথিনের দূষণে নদীগুলোতে পড়ে ভয়ংকর দুর্দশার সম্মুখীন হয়েছে। এতে নদী তীরবর্তী মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া বাঙালি সংস্কৃতির একটা বড় অংশ জুড়ে আছে নদী। বাঙালির অন্তপ্রাণ সেই নদী আজ দখল দূষণে বিপন্ন। 

ভালুকা খীরু নদীর নাব্যতা ফিরে আনার জন্য ২০২৩ সালে খীরু নদীসহ কয়েকটি খাল খনন কাজের জন্য ২১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড। কিন্তু দুর্নীতির কারনে নাম মাত্র খনন কাজ করা হয়েছে। খনন করে মাটি পাড় ঘেষে রাখায় বর্ষার বৃষ্টিতে মাটি পুনরায় নদী গর্ভে চলে আসায় নদী পুনরায় ভরে গেছে। 

সংশ্লিষ্ট দপ্তর সূত্রে জানাযায়,২০২৩ সালে ময়মনসিংহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্বাবধানে ১৫ কোটি পাঁচ লাখ টাকা ব্যয়ে খীরু নদীর ২৪.৩ কিলোমিটার এবং ৫ কোটি ৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৪.৬ কিলোমিটার লাউতি নদী ও ৮৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪.৯০০ কিলোমিটার বিলাইজুরি খাল খনন কাজ করছেন। কিন্তু শিল্প কারখানার অনিয়ন্ত্রিত বর্জ্য সরাসরি খিরু ও লাউতি নদী এবং বিলাইজুরি খালে ফেলার কারণে পলি জমে পুনরায় ভরাট হয়ে নাব্যতা কমে গেছে। নদীর তলদেশে ২০ মিটার পর্যন্ত খনন করে মাটি নদির পাড় থেকে অন্তত ৪০ ফুট দূরে ফেলার কথা কিন্তু নদির পাড় ঘেষে মাটি ফেলা হয়েছে। বৃষ্টিতে মাটি পূণরায় নদীতে পড়ে আগের অবস্থায় হয়ে গেছে। নদীগুলো লোকদেখানো খনন করে সরকারের কোটি কোটি টাকা দুর্নীতি করা হচ্ছে। ভালুকা উপজেলায় নদীগুলোর দীর্ঘ স্থায়ী পরিকল্পনা করে ব্যবস্থা না নিলে এক সময় নদীগুলো তার অস্থিস্ত হারাবে।

নদীর পাড়ের বাসিন্দারা জানান, এক সময় খীরু ও সুতীয়া নদীতে গ্রামবাসী নারী পুরুষ গোসল ও সাতার কাটতো। নদী থেকে সেচ দিয়ে দুই পাশে জমিতে চাষাবাদ করা হইত। নদী ভরাট হয়ে পানি কমে গেছে। নদীগুলোতে প্রচুর মাছ পাওয়া যেতো। এখন নদীগুলো মাছ শুন্য হয়ে গেছে । নদীতে শিল্পের বর্জ্যের পচা পানিতে মাছ সহ জলজ প্রাণী মরে গেছে। পচা পানির দুর্গন্ধে নদীর পারে মানুষের জীবন যাত্রা অসহনীয় হয়ে পড়েছে। সুকনো মৌসমে নদীতে যে পানি থাকে শিল্পের বর্জ্যের পচা পানি কৃষিকাজ সহ মানুষের কোন কাজে আসেনা। সরকার আসে সরকার যায় কিন্তু নদী রক্ষায় কোন স্থায়ী উদ্যোগ নিচ্ছেনা কেউ। নদীকে জীবন্ত-সত্তা হিসেবে ঘোষণা দিলেই হবে না। নদী দূর্ষণকারীদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। নদীগুলোকে এখনই রক্ষার কার্যকরী পদক্ষেপ না নিলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে হয়তো নদীগুলো মরা নদীতে রুপ নেবে। 

ভালুকা উপজেলা শাখার বাপার সদস্য সচিব কামরুল হাসান পাঠান কামাল বলেন কিছু দুষ্ট চক্র নদীর জমি জবরদখল করে নিজের দখলে নিয়েছ্।ে শিল্পের প্লাস্টিক বর্জ্যসহ নানা কেমিকেলের পানি নদীতে ছেড়ে দেয়ায় নদীর পানির একেবারে ব্যাবহার অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এতে নদীগুলো মরা নদীর রূপ নিয়েছে, তেমনি ক্ষতি হচ্ছে পরিবেশের। 

১৯৮০ সাল থেকে প্রতিবছর সেপ্টেম্বর মাস থেকে বিশ্ব নদী দিবস হিসেবে পালন করতে শুরু করে কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি। যার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছিল বিসি রিভারস ডে পালন দিয়ে। কানাডার খ্যাতনামা নদীবিষয়ক আইনজীবী মার্ক অ্যাঞ্জেলো দিনটি ‘নদী দিবস’ হিসেবে পালনের উদ্যোগ গ্রহন করেছিলেন। বিসি রিভারস ডে পালনের সাফল্যের হাত ধরেই তা আন্তর্জাতিক রূপ পায়। ২০০৫ সালে জাতিসংঘ দিবসটি অনুসমর্থন করে। এরপর থেকে জাতিসংঘের বিভিন্ন সহযোগী সংস্থা দিবসটি পালন করছে। কার্যকরী ভুমিকা না নিয়ে সভা সমাবেশ সেমিনার ও মানববন্ধনের মধ্যে সীমাবন্ধ থাকলে নদীগুলো এক সময় কালের গর্ভে হারিয়ে যাবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে