লক্ষ্ণীপুরের রামগতিতে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের নেতার এক নারীর আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক) ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি হলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রামগতি উত্তর শাখার সেক্রেটারী এবং আলেকজান্ডার দারুল কুরআন ইসলামীয়া মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মাওলানা শাহাদাত হোসেন জামিল। অভিযুক্ত জামিল রামগতি পৌরসভার চর সেকান্দর এলাকার আক্তারুজ্জামনের ছেলে এবং ওই এলাকার হাজী রওশন আলী জামে মসজিদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এ বিষয়ে মাওলানা শাহাদাত হোসেন জামিল এই নারী তার স্ত্রী দাবি করে বলেন, ভিডিওটি ফেব্রুয়ারী মাসের ২ তারিখের সকাল সাড়ে ১০টার। মাদ্রাসার ৫ম শ্রেণির সাবেক এক ছাত্রের সাথে আমার বিরোধ রয়েছে। এর জের ধরে আমার সম্মানহানি করার জন্য এই ভিডিওটি ভাইরাল করা হয়েছে। আমি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছি। মাদ্রাসার অফিস কক্ষে এসময় তার স্ত্রী ফারহানা আক্তার উপস্থিত ছিলেন।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ওই নেতা মাদ্রাসার অফিস কক্ষে বোরকা পড়া এক নারীর সঙ্গে আপত্তিকর আচরণ করছেন। পরে ওই নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করতে চাইছেন। উপজেলা সদর আলেকজান্ডার বাজারের পশ্চিম পাশে খন্দকার রোডের হাজী কামাল টাওয়ারে মাদ্রাসার অফিস কক্ষে এই ঘটনা ঘটে। মাদ্রাসার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে ওই নারীর সঙ্গে তার আপত্তিকর ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক) এক নারীর সাথে আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় জামিলকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রামগতি উত্তর শাখার দলীয় পদ থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ঘটনা তদন্তে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে জেলা শাখা। সোমবার রাতে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ লক্ষ্ণীপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি মাওলানা জহির উদ্দিন।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সমপ্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রামগতি উত্তর শাখার ওই নেতাকে জড়িয়ে একটি আপত্তিকর ভিডিও প্রচারিত হওয়ার বিষয়টি জেলা কমিটির দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সংগঠনের সকল দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।
দলীয় সূত্র জানায়, ভিডিওর বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট নারীকে নিজের বৈধ স্ত্রী বলে দাবি করেছেন। তার এই দাবির সত্যতা যাচাই এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য জেলা শাখা থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংগঠনের দলীয় নীতিমালা অনুযায়ী পরবর্তী চূড়ান্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে জেলা সেক্রেটারি মাওলানা জহির উদ্দিন বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সবসময়ই অন্যায় ও নৈতিকতা বিবর্জিত কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সোচ্চার এবং আপোষহীন। সংগঠনের কোনো পর্যায়ের দায়িত্বশীলের বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনের প্রমাণ পাওয়া গেলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো প্রকার অপ্রমাণিত তথ্য, গুজব বা বিভ্রান্তিকর প্রচারণা থেকে বিরত থাকার জন্য সর্বস্তরের জনতাকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।