নির্বাচন সুষ্ঠ হওয়ায় প্রশংসায় ভাসছে সৈয়দপুর ইউএনও

এফএনএস (ওবায়দুল ইসলাম; সৈয়দপুর, নীলফামারী) :
| আপডেট: ১২ মার্চ, ২০২৬, ০২:২৫ পিএম | প্রকাশ: ১১ মার্চ, ২০২৬, ০৩:২৫ পিএম
নির্বাচন সুষ্ঠ হওয়ায় প্রশংসায় ভাসছে সৈয়দপুর ইউএনও
গত ১২ ফেব্রুয়ারি শান্তিপূর্ণ  ও উৎসবমুখর পরিবেশে নীলফামারী-৪ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। ওইদিন সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলে ভোটগ্রহণ । দিনব্যাপী ভোটকেন্দ্রগুলোতে নারী ও পুরুষ ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। সকালের দিকে ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। অনেক ভোটার পরিবার-পরিজন নিয়ে কেন্দ্রে এসে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। নারী ভোটারদের উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য।

নির্বাচনকে ঘিরে প্রতিটি কেন্দ্রে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। পুলিশ, আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কেন্দ্রের ভেতর ও বাইরে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ভ্রাম্যমাণ টহলে ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। ফলে কোথাও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, নীলফামারী-৪ আসনের সবগুলো ভোটকেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রশাসনের সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করেন।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বলেন,সার্বিকভাবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। ভোটাররা নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছেন।
এদিকে ভোটগ্রহণ শেষে কেন্দ্রগুলো থেকে ব্যালট বাক্স সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। ভোট গণনা শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
ভোটাররা জানান,শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে পেরে তারা সন্তুষ্ট। তারা আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এলাকার উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।
উল্লেখ্য,নীলফামারীর সংসদীয় চারটি আসনের মধ্যে নীলফামারী -৪ আসন সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জের বেশ কিছু ভোট কেন্দ্র ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। অতীতের যে কোন নির্বাচনে ভোট কেন্দ্রে ঘটতো বিশৃঙ্খলা।  বিশেষ করে সৈয়দপুরে ভোট কেন্দ্রে গোলাগুলি হত। এতে আহত ও নিহতের ঘটনাও ঘটেছে সৈয়দপুরে।
সৈয়দপুর পৌরসভাসহ ৫টি ইউনিয়নে মোট ভোট কেন্দ্র ছিল ৯১ টি। এ আসনে প্রার্থী ছিলেন ৯ জন।

মোট ভোটার ছিল ২২৭৯১৪ জন। এদের মধ্যে নারী ভোটার ছিল ১১৩৯২৯ জন ও পুরুষ ভোটার ছিল ১১৩৯৮১ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ছিল ৪ জন। এ উপজেলার ঝুঁকিপূর্ণ ভোট কেন্দ্র ছিল বোতলাগাড়ী ইউনিয়নে কয়েকটি, খাতামধুপুর ইউনিয়ন,কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়ন ও বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি কেন্দ্র। তবে সহকারী রিটার্ণিং কর্মকর্তা সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক ফারাহ ফাতেহা তাকমিলার অত্যন্ত সুদক্ষ,বুদ্ধিমত্বা,সাহসিকতা,স্বচ্চতা নিরপেক্ষতার কারণে ৯১টি ভোট কেন্দ্রে অত্যন্ত সুষ্ঠু,শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। 
যা সৈয়দপুরে এক বিরল ইতিহাস। 
সৈয়দপুর উপজেলা মানবাধিকার কমিশনের সাধারণ সম্পাদক ও ব্যবসায়ি নেতা মোঃ সেকেন্দার আলী বলেন,এবারের মত শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অন্তত সৈয়দপুরে ইতিপুর্বে দেখা যায়নি। অতীতে বিভিন্ন নির্বাচনে কোথাও না কোথাও ভোট কেন্দ্রে গন্ডগোল হয়েছে। কিন্তু এবার কোথাও কোন প্রকার বিশৃঙ্খলা ঘটেনি। এটা সম্ভব হয়েছে শুধুমাত্র একজন দক্ষ সহকারী রিটার্ণিং কর্মকর্তা ও সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা মহোদয়ের কারণেই।

সৈয়দপুর উপজেলা কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ( ক্যাব) এর যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক সমাজসেবক ইয়াসিন আলী সরকার জানান,সৈয়দপুরে সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট সম্পন্ন হয়েছে। আর এ কারণে প্রশংসায় ভাসছে সহকারী রিটার্ণিং অফিসার ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা। এদিকে এ আসনের অপর অংশ কিশোরগঞ্জ উপজেলা। সেখানেও শান্তিপূর্ণ ভোট হয়েছে। এখানে কেন্দ্র ছিল ৭৮ টি। ভোটার ছিল ২২৩৯০০ জন। উভয় উপজেলা মিলে নীলফামারী - ৪ আসনে মোট ভোটার ছিল ৪৫১৮১৪ জন। 
বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন সৈয়দপুর উপজেলা শাখার সভাপতি ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ভোটাররা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে তাদের ভোট প্রয়োগ করতে পেরে অত্যত আনন্দিত। তারা প্রশংসা করছেন সহকারী রিটার্ণিং অফিসার ও সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারাহ ফাতেহা তাকমিলার। ভোটার আঞ্জেলো হক মন্তল বলেন,সহকারী রিটার্ণিং কর্মকর্তা ছিলেন অত্যন্ত দক্ষ ও পরিশ্রমী। তাঁর নিরলস পরিশ্রমের ফলে ভোট হয়েছে সুষ্ঠ এবং উৎসবমুখর পরিবেশে।
আপনার জেলার সংবাদ পড়তে