জামালপুরে গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

এফএনএস (এস এম এ হালিম দুলাল; জামালপুর) : | প্রকাশ: ১১ মার্চ, ২০২৬, ০৭:৪৩ পিএম
জামালপুরে গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

এক গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে তিনজনকে দোষী সাব্যস্ত করে তাদের মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছে আদালত। বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবূনাল-১ এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এই রায় দেন। সেই তাদের ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা জরিমানাও করেছে আদালত। দণ্ডিতরা হলেন, জামালপুর সদর উপজেলার পাকুল্লা মধ্যপাড়া গ্রামের আজিজুল হকের ২৮ বছর বয়সী ছেলে মো. ফারুক হোসেন, একই গ্রামের মো. আলী আকবরের ২৫ বছর বয়সী ছেলে মোঃ মনছুর আলী এবং পাকুল্লা ভাঙ্গুনীঘাট গ্রামের ১৬ বছর বয়সী শফিকুল ইসলামের ছেলে মো. ফেরদৌস হোসেন এবং পাকুল্লা ভাঙ্গুনীঘাট গ্রামের মোঃ জামাল উদ্দিন এর ১৭ বছর বয়সী ছেলে মোঃ জাহিদুল ইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এ্যাডভোকেট মোঃ ফজলুল হক পি.পি. সাংবাদিকদের= জানায়, বিগত ১৯ জুলাই, ২০২৩ রাত অনুমান সাড়ে ৯ টার দিকে মটর সাইকেল যোগে জামালপুর সদর উপজেলার রশিদপুর এলাকায় একটি বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ২০ বছর বয়সী এক গৃহবধূ তার স্বামীর সাথে বাড়ি ফিরছিলেন। পাকুল্লা ভাঙ্গুনীঘাট মাড়ে এসে চায়ের দোকানে চা-খায় এবং সেখান হইতে গজারিয়াটা ইটের সলিং রাস্তাদিয়ে জনৈক মেছের চৌরার বাড়ীর মোড় এলাকায় পৌঁছান, তখন তাদের পিছনে আসা ধর্ষকরা তাদের মোটরসাইকেল থামিয়ে স্বামীকে গাছের সাথে বেঁধে ফেলে এবং গৃহবধূকে কাছের নির্জন স্থানে টেনে নিয়ে যায় এবং একের পর এক ধর্ষণ করে। তার স্বামী কিছুক্ষণের মধ্যেই তার হাতের বাধন খুলে ৯৯৯ হট লাইনে পুলিশের সাহায্য চান। খবর পেয়ে নারায়ণপুর তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গৃহবধূকে উদ্ধার করে। মামলার পর পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম ৫ জন সাক্ষী, মেডিকেল রিপোর্ট এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথি পরীক্ষা করে তাদের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ৯ (৩) ধারায়  দোষী সাব্যস্ত করেন এবং  আসামীদের অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড এবং প্রত্যেককে এক লাখ টাকা জরিমানা করেন। এই জরিমানার টাকা ভিকটিম প্রাপ্ত হবেন। আদালত মো. ফারুক হোসেন, মনছুর আলী ও ফেরদৌসকে ২০০০ সালের ৭ ধারার অধীনে তাদের দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এই জরিমানার টাকা ভিকটিম প্রাপ্ত হবেন। তবে পাকুল্লা ভাঙ্গুনী ঘাট গ্রামের মোঃ জামাল উদ্দিন এর ১৭ বছর বয়সী ছেলে মোঃ জাহিদুল ইসলাম এর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ৭/৯ (৩) ধারায় দোষী সব্যস্থ না হওয়ায় আদালত তাকে বেকসুস খালাস প্রদান করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন, এ্যাডভোকেট মোঃ ফজলুল হক পি.পি. মামলার শুনানি করেন এবং আসামী পক্ষে ছিলেন, এ্যাডভোকেট মোঃ জাহাঙ্গীর আলম।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে