রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট পৌরসভার সাঁকোয়া গ্রামে ঈদের নামাজে ইমাম নির্ধারণকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মসজিদের মুয়াজ্জিন জামায়াত কর্মী আলাউদ্দিন (৫৬) নিহত হওয়ার ঘটনায় পাল্টা দায়ের করা তিনটি মামলায় জামিন পেয়েছেন জামায়াতে ইসলামী নেতৃবৃন্দ।
বুধবার (১১ মার্চ) রাজশাহী মোহনপুর আদালত থেকে তারা জামিন লাভ করেন। এ সময় তিনটি মামলার মধ্যে এক মামলার বাদী মহেদ আলী আদালতে উপস্থিত হয়ে মামলাটিকে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে তা প্রত্যাহারের আবেদন জানান। এর পর বুধবার দুপুরে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন জামায়াত নেতৃবৃন্দ। তারা জানান, নিহত আলাউদ্দিন গত প্রায় ৩০ বছর ধরে বিনা বেতনে সাঁকোয়া বাকশইল কামিল মাদ্রাসা মসজিদে মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তাকে ওই দায়িত্ব থেকে সরানোর উদ্দেশ্যে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা চাপ সৃষ্টি করছিল। এ নিয়ে গত ৭ মার্চ স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের সাথে বাকবিতণ্ডা এক পর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে বিএনপি নেতাকর্মীদের মারপিটে আলাউদ্দিন গুরুতর আহত হন এবং পরে তার মৃত্যু ঘটে। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে ইমরান নাজির বাদী হয়ে ওইদিন রাতে মোহনপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় বিএনপির স্থানীয় সাত নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করা হয়। জামায়াত নেতারা অভিযোগ করেন, ওই মামলার প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি প্রতিহিংসাবশত পাল্টা মামলা দায়ের করে। এতে ১১১ জন জামায়াত নেতা-কর্মীর নামে তিনটি পৃথক মামলা করা হয়। আদালত মামলাগুলো পর্যালোচনা করে প্রাথমিকভাবে অভিযুক্তদের জামিন মঞ্জুর করেন। এ সময় জামায়াত নেতারা আলাউদ্দিন হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানান। আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত ছিলেন জেলা কর্মপরিষদ ও সূরা সদস্য মাওলানা এফএম ইসমাইল আলম আল হাসানী, মোহনপুর উপজেলা আমির আব্দুল আউয়াল, উপজেলা সেক্রেটারি আব্দুল গফুর মৃধা প্রমুখ।
অন্যদিকে মামলার বাদী মহেদ আলী সাংবাদিকদের জানান, ঘটনার পর বিএনপির পৌর সেক্রেটারি মশিউর রহমান তাকে মোটরসাইকেলে করে মোহনপুর থানায় নিয়ে যান। সেখানে একটি সাদা কাগজে তার স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পরে তিনি জানতে পারেন, ওই মামলার বাদী হিসেবে তার নাম ব্যবহার করা হয়েছে। মহেদ আলী বলেন, “এই মামলার ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমি বুধবার আদালতে এফিডেভিট করে মামলাটি প্রত্যাহারের আবেদন করেছি।” তিনি আরও দাবি করেন, জামায়াতের নামে বাড়িঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগের যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা মিথ্যা ও বানোয়াট।
উল্লেখ্য, ঈদের নামাজ পড়ানোর ইমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে মোহনপুর উপজেলার সাঁকোয়া গ্রামে গত শনিবার (৭ মার্চ) রাত সাড়ে ৭ টার সময় জামায়াতে ইসলামীর কর্মী মো. আলাউদ্দিনের ওপর হামলা চালানো হয়। বিএনপির স্থানীয় নেতা মো: ওমর ও রাইসুল ইসলাম রাসেলের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী তাকে নৃশংসভাবে আক্রমণ করে এবং পায়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে।
এ বিষয়ে কেশরহাট পৌর বিএনপি সাধারণ সম্পাদক মো: মশিউর রহমান বলেন, মামলার বাদী মহেদ আলী নিজ বিএনপির কর্মী দাবি করে মামলা দায়ের করেছেন। তাকে জোর করে মামলা করানো হয়নি।