হাজীগঞ্জ মসজিদে জুমাতুল বিদায় লক্ষাধিক মানুষের অংশগ্রহণ

এফএনএস (মিজানুর রহমান; চাঁদপুর) : | প্রকাশ: ১৩ মার্চ, ২০২৬, ০৬:৩৬ পিএম
হাজীগঞ্জ মসজিদে জুমাতুল বিদায় লক্ষাধিক মানুষের অংশগ্রহণ

পবিত্র রমজান মাসের শেষ শুক্রবার জুমার নামাজে (জুমাতুল বিদা) চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদে লক্ষাধিক মুসল্লী একসাথে জুমার নামাজ আদায় করেছে।২৩ রমজান, শুক্রবার (১৩ মার্চ) জুমার আজানের আগে থেকেই লোকজন মসজিদে আসতে শুরু করেন।পরে জুমার খুতবায়  জাকাত ও ফিতরার ফজিলত বর্ণনা করেন ঐতিহাসিক এই মসজিদের খতিব মুফতি আব্দুর রউফ।  পবিত্র জুমআতুল বিদা দিনকে ইবাদতের মর্যাদাপূর্ণ দিন হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সকাল থেকে চাঁদপুরের বিভিন্ন স্থানসহ আশপাশের জেলা থেকে আগত হাজার হাজার মুসল্লির ঢল নামে। বেলা ১১ টার মধ্যেই বিশাল মসজিদের প্রথম ও দ্বিতীয় তলা কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে যায়। মসজিদ ও মাঠে জায়গা না গেয়ে চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কে স্টেশন রোডের সম্মুখ থেকে শুরু করে হাজীগঞ্জের পূর্ব বাজারের বড় ব্রিজ পর্যন্ত মুসল্লিদের নামাজের কাতার ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কে সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দূরদূরান্ত থেকে আগত মুসল্লিদের জন্য মসজিদ কর্তৃপক্ষ মসজিদের মাঠ, পাশের আহমাদিয়া আলিয়া মাদরাসা মাঠ ও ভবন, জামেয়া আহমাদিয়া কওমি মাদরাসা ভবন, হাজীগঞ্জ টাওয়ার, রজনীগন্ধা মার্কেট, হাজীগঞ্জ প্লাজা, বিজনেস পার্ক, প্রাইম ব্যাংক ভবন, সাবেক পৌরসভা ভবনের ওপর নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করে। অভিভাবকদের সঙ্গে জুমার নামাজ পড়তে এসেছেন শিশু-কিশোরেরাও। পাশাপাশি নারী মুসল্লিরাও অংশ নিয়েছেন অনেকেই। নামাজ শেষে দেশ, জাতি, মুসলিম উম্মাহ-সহ ফিলিস্তিন ও ইরানের মুসলমানদের জন্য বিশেষ দোয়া কামনা করা হয়। মুসল্লীরা জানান, প্রতিবছর হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদে জুমাতুল বিদা নামাজ আদায় করি। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এখানে হাজার হাজার মানুষ একসাথে নামাজ আদায় করার জন্য আসেন, খুব ভালো লাগে। এখনকার ব্যবস্থাপনা খুবই ভালো। দূরদূরান্তের মানুষ সকাল থেকে এসে ভিড় করেন। স্থানীয়রা নামাজ শুরুর আগে আসেন। লক্ষীপুর থেকে আসা মুসল্লী কলিমউল্যাহ বলেন, আমরা একসাথে কয়েকজন এখানে নামাজ পড়তে এসেছি। আগে থেকে নিয়ত ছিল, হাজীগঞ্জ বড় মসজিদে নামাজ পড়বো। অন্য জায়গা থেকে এখানে হাজার হাজার মানুষের সাথে নামাজ আদায় করা ভাগ্যের বিষয়। হাজীগঞ্জ বড় মসজিদের মোতাওয়াল্লি শাকিল আহমেদ প্রিন্স বলেন, প্রতিবছর জুমাতুল বিদা আদায়ে বিশাল জামাতের আয়োজন করা হয়। এখানে দিন দিন মুসল্লির সংখ্যা বাড়ছে। অন্যান্য বছরের চেয়েও এবার জুমাতুল বিদার নামাজ আদায়ে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। আমরা আমাদের সাধ্যমতো মুসল্লিদের সেবা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। সুশৃঙ্খলভাবে নামাজ আদায়ের লক্ষ্যে কঠোর নিরাপত্তা দেয়া হয়েছে। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া খুব ভালো ভাবে মানুষ নামাজ আদায় করেছেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে