রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের বিএনপির এমপি শফিকুল হক মিলনকে বিমানবন্দরে রিসিভ করেছেন জামায়াতকর্মী মো. আলাউদ্দীন (৬৫) হত্যা মামলার প্রধান আসামি। তারপর এমপির গাড়িবহরের সাথে তিনি মোহনপুর থানার সামনে দিয়ে উপজেলার কেশরহাটে পৌর বিএনপির আয়োজনে ইফতার মাহফিলে অংশ নিয়েছেন।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট পৌর বিএনপি আয়োজিত এই ইফতার মাহফিলে হত্যা মামলাটির অন্য আসামিরাও উপস্থিত ছিলেন। তবে পুলিশ বলছে, আসামিদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আর জামায়াতে ইসলামীর নেতারা বলছেন, হত্যা মামলার আসামিরা জামিন না নিয়েই এভাবে এমপির সঙ্গে থাকায় তারা আশ্চর্য হয়েছেন। আইনের শাসন কোথায়, সে প্রশ্ন তুলছেন তারা।
গত ৭ মার্চ মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট পৌরসভার সাঁকোয়ায় বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে হাতাহাতির মধ্যে জামায়াতকর্মী মো. আলাউদ্দিনের মৃত্যু হয়। ঈদের নামাজে ইমামতি করবেন কে, তা নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ওই হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। নিহত আলাউদ্দিন উপজেলা মডেল মসজিদের মুয়াজ্জিন ছিলেন। এ ঘটনায় তাঁর ছেলে এমরান আলী বাদী হয়ে মোহনপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এতে বলা হয়, আলাউদ্দিনের বুকের ওপর উঠে লাফালাফি করে তাকে হত্যা করা হয়।
মামলার এজাহারে সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়। ১ নম্বর আসামি রাইসুল ইসলাম রাসেল। তিনি কেশরহাট পৌর ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক। বর্তমানে তিনি জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি তানোরের সরনজাই কলেজের প্রভাষকও। আলাউদ্দিনের মৃত্যুর পর ওই রাতে জামায়াতের কর্মীরা রাইসুল ইসলামের বাড়িতে ভাঙচুর চালান। শুক্রবার বিকেলে ঢাকা থেকে রাজশাহী ফেরেন এলাকার এমপি শফিকুল হক মিলন। এ সময় বিমানবন্দরেই এমপির সঙ্গে সেলফি তোলেন হত্যা মামলার প্রধান আসামি রাইসুল ইসলাম। পরে তিনি ফেসবুকে ওই ছবি পোস্ট করেন। ক্যাপশনে লেখেন, ‘এয়ারপোর্টে ভাইকে রিসিভ করলাম। তারপর কেশরহাটে ইফতার মাহফিলে যোগদানের উদ্দেশ্যে রওনা।’
কেশরহাট পৌর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মোখলেসুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টা আমরা জানলাম। এয়ারপোর্ট থেকে হত্যা মামলার প্রধান আসামি মোহনপুর থানার সামনে দিয়ে ইফতার মাহফিলে এলেন। আর পুলিশ নাকি তাকে খুঁজে পাচ্ছে না। কেশরহাটে ইফতার মাহফিলে হত্যা মামলাটির অন্য আসামিরাও ছিলেন। আমরা খুবই আশ্চর্য হলাম। আইনের শাসন কোথায়?’
শুক্রবার রাতে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রাইসুল ইসলামকে তার মোবাইলেই পাওয়া যায়। হত্যা মামলায় জামিন নিয়েছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখনও জামিন হয়নি। হাইকোর্ট থেকে জামিন হয়ে যাবে।’ জামিন না নিয়েই প্রকাশ্যে এমপির সাথে থাকা এবং ছবি পোস্ট করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কিছুক্ষণ পর কথা বলবেন বলে জানান।
এরপর তিনি ফেসবুক থেকে ছবিগুলো ডিলিট করে দেন। পরে এ প্রতিবেদককে ফোন করে বলেন, তিনি ভুল করেছেন। এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য তিনি অনুরোধ জানান।
মোহনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বদলি হয়েছেন। দায়িত্বে রয়েছেন উপপরিদর্শক (এসআই) মোদাস্বের হোসেন খান। তিনি বলেন, ‘আসামিদের জামিনের কোনো কাগজপত্র পাইনি। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। পলাতক থাকায় কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।’ বিমানবন্দর ও ইফতার মাহফিলে আসামিদের উপস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘এয়ারপোর্ট তো মোহনপুর থানার ভেতরে না। আর ইফতারে কেউ ছিল কি না সেটা জানি না।’
এমপি শফিকুল হক মিলন অবশ্য দাবি করেছেন জামায়াতকর্মী আলাউদ্দিন মারা গেছেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে। তিনি বলেন, ‘রাইসুল এয়ারপোর্টে গেছে তো কী হয়েছে? হত্যা মামলাটা সঠিক না। আগে রিপোর্ট (ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন) আসুক। তারপর দেখা যাবে।