ঈদ কেনাকাটায় চাঁদপুরের মার্কেটগুলোতে উপচে পড়া ভিড়

এফএনএস (মিজানুর রহমান; চাঁদপুর) : | প্রকাশ: ১৪ মার্চ, ২০২৬, ০৩:২৬ পিএম
ঈদ কেনাকাটায় চাঁদপুরের মার্কেটগুলোতে উপচে পড়া ভিড়

চাঁদপুর শহরের বাজার এখন পুরোপুরি ঈদের আমেজে ভরপুর।পবিত্র ঈদুল ফিতরকে ঘিরে প্রতিটি দোকানে ক্রেতাদের ভিড় যেনো ঈদের আনন্দকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। ছোট-বড় সকলেই তাদের বাজেট অনুযায়ী শপিং করতে ব্যস্ত। শহরের বিভিন্ন অভিজাত বিপনী বিতান শপিংমল এমনকি ফুটপাত উপচেপড়া ভিড়। সকাল থেকে দুপুর ও বিকেল থেকে সন্ধ্যারাত পর্যন্ত রূপ নেয় ক্রেতা ও দর্শনার্থী সমুদ্রে। উদ্দেশ্য আসন্ন ঈদুল ফিতরের জন্য নতুন পোশাক এবং অন্যান্য অনুষঙ্গ কেনা। চাঁদপুরের বিভিন্ন শপিংমলের মধ্যে চাঁদপুর পৌরসভা কার্যালয় থেকে কালিবাড়ি, কোর্টস্টেশন, জেএম সেনগুপ্ত রোড, জোরপুকুর পাড়, রেলও হকার্স মার্কেট, বাইতুল আমিন মসজিদের আশ-পাশের মার্কেটগুলো,হাকিম প্লাজা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সড়ক মার্কেট,বাস স্ট্যান্ড ফয়সাল শপিং কমপ্লেক্সসহ শহরের সবগুলো ছোট বড় মার্কেট দোকান, পুরান বাজারের খলিফা পট্টি,ট্রাঙ্কপট্টি, মসজিদ পট্টি,যুগিপট্টিতে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে জোড়পুকুর পাড়, জেএম সেনগুপ্ত রোড,কুমিল্লা রোড কালিবাড়ি, রেলওয়ে হকার্স মার্কেট এলাকায় অবস্থিত মার্কেটগুলোতে মানুষের চাপ বেশি। শনিবার ২৪ রমজান (১৪ মার্চ) সকাল থেকে পৌর এলাকার মার্কেটগুলো ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন শপিংমল, মার্কেট ও ফুটপাতের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। পোশাক, জুতা, প্রসাধনী ও শিশুদের সামগ্রীর দোকানগুলোতে ভিড় বেশি। এছাড়া প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকেই এসব মার্কেট ও আশপাশের অলিগলিতে ক্রেতার চাপ কয়েকগুণ বেড়েছে। ব্র্যান্ড শপগুলোতে ভিড় বেশি হলেও সাধারণ দোকান ও ফুটপাতের দোকানগুলোতেও ক্রেতাদের উপস্থিতি লক্ষণীয়। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ১৫ রমজানের পর থেকে  ভিড় বেড়েছে। মেইন রোডের জুতা ব্যবসায়ী রাতুল বলেন, দুপুর পর্যন্ত তের জোড়া জুতা বিক্রি হয়েছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় কম। ওইদিন সরেজমিনে দেখা গেছে, মার্কেটের প্রায় প্রতিটি দোকানেই ক্রেতাদের ভিড়। দোকানের সামনে ঝুলছে রঙিন পোশাক, আর ভেতরে চলছে ক্রেতা-বিক্রেতার দরদাম। দোকানগুলোতে সারি সারি সাজানো হয়েছে শিশুদের ফ্রক, গাউন, স্কার্ট, পানজাবি, শার্ট-প্যান্ট, টি-শার্টসহ নানা ধরনের পোশাক। বিশেষ করে শিশুদের পোশাকের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ব্যাপক উপস্থিতি বেশি দেখা গেছে। অভিভাবকরা সন্তানদের নিয়ে দোকানে দোকানে ঘুরে তাদের পছন্দের পোশাক কিনছেন। রঙিন ও আকর্ষণীয় ডিজাইনের পোশাকগুলো শিশুদের চোখে সহজেই ধরা পড়ছে। অনেক শিশুকে দেখা গেছে নিজেদের পছন্দের পোশাক বেছে নিতে।

প্রসাধনী ও রেডিমেড পোশাক  ব্যবসায়ী অমর দে বলেন, গত দুই-তিন দিন ধরে ক্রেতা বাড়ছে, ঈদের সপ্তাহে বেচাকেনা আরও বাড়বে। ক্রেতা ইশতিয়াক  জানিয়েছেন, অফিস ও অন্যান্য ব্যস্ততার কারণে আগে কেনাকাটা করতে পারেননি, শুক্র ও শনিবার বন্ধের দিন থাকায়  তাই মার্কেটে এসেছেন। ঈদ মার্কেটের কারণে শহরে যানজটও বেড়েছে। পাল বাজার ব্রিজ চত্বর থেকে কালিবাড়ি মোড়,তাজমহল লাইব্রেরি, রেলওয়ে কোর্ট স্টেশন,বাইতুল আমিন মসজিদ  চত্বর, হকার্স মার্কেট মুক্তিযোদ্ধা সড়ক, গণিস্কুলের সামনে হতে চিত্রলেখা মোড় রাজু চত্বর, কলেজ গেট, বিপনিবাগ,মাতৃপীঠ স্কুল মোড়,মিশন রোড মোড়, স্টেডিয়াম সড়ক, বাস স্ট্যান্ড এলাকায় যানবাহনের চাপ লক্ষ্য করা গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও মার্কেটের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদের কেনাকাটার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে এসব এলাকায় ক্রেতাদের ভিড় আরও বাড়ার আশা করছেন ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা।

এবারে ঈদের বাজারে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে জুতা,থ্রি পিস, শাড়ি এবং ছোট বাচ্চাদের পোশাক। বাজারে আগত ক্রেতারা জানাচ্ছেন, এবার ঈদ শপিংয়ে অনেক বেশি ভালো লাগছে, কারণ পছন্দমত সব কিছু পেয়ে যাচ্ছেন।মেয়েদের পোশাকের মধ্যে এবার পাথরের কাজের তুলনায় সুতার কাজের কামিজগুলো ভালো চলছে। বিাভিন্ন দোকান ঘুরে দোকানী ও ক্রেতাদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, ভারতীয় কাপড়ে জরি, সুতা, পুঁথি, চুমকি, কুন্দন ইত্যাদি দিয়ে নকশা করা সালোয়ার-কামিজের চাহিদা আছে বেশ। সূতি পোশাকের চাহিদাটা একটু বেশি।ছেলেদের ঈদ কেনাকাটায় পাঞ্জাবি পেন্ট শার্ট, গেঞ্জির মার্কেট দোকানগুলোতেও ক্রেতাদের ভিড় লেগেই আছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে