১৮ দিনের বইমেলার পর্দা নামছে আজ, বিকেলে সমাপনী অনুষ্ঠান

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ১৫ মার্চ, ২০২৬, ১১:৪৮ এএম
১৮ দিনের বইমেলার পর্দা নামছে আজ, বিকেলে সমাপনী অনুষ্ঠান

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শেষ হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা ২০২৬। নানা আলোচনা, সমালোচনা এবং প্রকাশকদের বিক্রি নিয়ে হতাশার মধ্যেই রোববার (১৫ মার্চ) শেষ হচ্ছে এবারের আয়োজন। সমাপনী দিনে মেলা দুপুর ২টায় শুরু হয়ে চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে প্রথাগত ১ ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে এবারের বইমেলা শুরু হয়েছিল ২৬ ফেব্রুয়ারি। ফলে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের তুলনায় মেলার সময়কাল কমে দাঁড়ায় মাত্র ১৮ দিনে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সময়সীমা কম হওয়া এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাবেই বই বিক্রিতে কাঙ্ক্ষিত গতি দেখা যায়নি।

প্রকাশকদের অনেকেই বলছেন, মেলার সময়সূচি নিয়ে শুরু থেকেই তাদের মধ্যে দ্বিধা ছিল। বড় কয়েকটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান দাবি করেছে, এবারের মেলায় তাদের বিনিয়োগের অর্ধেকও উঠে আসেনি। যাতায়াতের অসুবিধা, সময়ের স্বল্পতা এবং বিভিন্ন বাস্তবতার কারণে গত বছরের তুলনায় বিক্রি কমেছে বলেও তাদের অভিযোগ।

সমাপনী দিন উপলক্ষে বিকেল ৩টায় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম। মেলার সার্বিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করবেন ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২৬’-এর সদস্যসচিব ড. মো. সেলিম রেজা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেবেন সংস্কৃতি সচিব মো. মফিদুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক।

প্রতিবারের মতো এবারও মেলার সমাপনী দিনে বিভিন্ন গুণীজন স্মৃতি পুরস্কার দেওয়া হবে। এর মধ্যে রয়েছে চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার, মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার, রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার, সরদার জয়েন উদ্দীন স্মৃতি পুরস্কার এবং শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার।

বাংলা একাডেমির তথ্য অনুযায়ী, এবারের মেলায় নতুন বই প্রকাশিত হয়েছে এক হাজার সাত শতাধিক। শেষ দিনে পাঠক, লেখক ও দর্শনার্থীদের বড় ধরনের ভিড় হতে পারে বলে আশা করছেন আয়োজক ও প্রকাশকরা। দুপুরের পর থেকেই বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এলাকায় বইপ্রেমীদের পদচারণা বাড়তে পারে।

তবে মেলার শেষ দিকে এসে কিছু প্রকাশক প্রাকৃতিক দুর্যোগেরও মুখোমুখি হয়েছেন। শিলাবৃষ্টিতে বেশ কয়েকটি স্টলের বই ভিজে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রকাশকরা। জোনাকী প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী মঞ্জুর হোসেন বলেন, “যখন বিক্রি জমে উঠেছিল, তখনই শিলাবৃষ্টি শুরু হয়। আমার প্রায় ৫০ হাজার টাকার বই ভিজে গেছে। মন্দা অবস্থার এই মেলায় হঠাৎ বৃষ্টি প্রকাশকদের জন্য মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো।”

এদিকে মেলার সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে সরকারের কাছে কয়েকটি দাবি জানিয়েছে সৃজনশীল প্রকাশক ঐক্য। তারা প্রকাশনাশিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকারি বই কেনার বাজেট বাড়ানো, লাইব্রেরি উন্নয়ন এবং জাতীয় গ্রন্থনীতি হালনাগাদ করার মতো উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে