আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলে নতুন করে রাতভর বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদের দাবি, এই হামলায় কান্দাহার প্রদেশে সন্ত্রাসীদের ব্যবহৃত সামরিক স্থাপনা ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ধ্বংস করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।
আলজাজিরা জানায়, পাকিস্তানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনের দাবি অনুযায়ী কান্দাহারে একটি প্রযুক্তিগত সহায়তা কেন্দ্র এবং সরঞ্জাম সংরক্ষণাগার লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। ইসলামাবাদের বক্তব্য, এসব স্থাপনা আফগান তালেবান ও সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলো পাকিস্তানের নিরীহ নাগরিকদের ওপর হামলা চালাতে ব্যবহার করছিল। একই অভিযানে কান্দাহারের একটি সুড়ঙ্গেও আঘাত হানা হয়। পাকিস্তান বলছে, সেখানে ‘ফিতনা আল খাওয়ারিজ’ নামে পরিচিত একটি গোষ্ঠীর প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম রাখা ছিল।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাতের আকাশে যুদ্ধবিমান উড়তে দেখা যায় এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। কান্দাহারের এক বাসিন্দা বলেন, “সামরিক বিমান একটি পাহাড়ের ওপর থাকা স্থাপনার দিকে উড়ে যায়। তারপরই বড় বিস্ফোরণের শব্দ শুনি। দূর থেকে আগুনের শিখা দেখা যাচ্ছিল।”
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কান্দাহারের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের স্পিন বোলদাক এলাকাতেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। একই সময় পূর্ব সীমান্তবর্তী খোস্ত প্রদেশে শনিবার রাতে সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়।
তবে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ পাকিস্তানের দাবির সঙ্গে ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, পাকিস্তানের হামলায় একটি মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্র এবং একটি খালি কন্টেইনার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার ভাষায়, পাকিস্তান যে সামরিক স্থাপনার কথা বলছে সেগুলো হামলার স্থান থেকে অনেক দূরে।
এদিকে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, আফগানিস্তানের তালেবান সরকার তাদের নিরাপত্তা উদ্বেগের সমাধান না করা পর্যন্ত এ ধরনের অভিযান চলতে পারে।
এই হামলার আগে শুক্রবার রাতে পাকিস্তানের তিনটি স্থানে আফগানিস্তান থেকে ড্রোন হামলার অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি বলেন, কাবুল বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করার চেষ্টা করে ‘লাল রেখা’ অতিক্রম করেছে। পাকিস্তানের সেনাবাহিনী জানায়, ড্রোনগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই ধ্বংস করা হয়। তবে ধ্বংসাবশেষ পড়ে কোয়েটায় দুই শিশু এবং কোহাট ও রাওয়ালপিন্ডিতে কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক আহত হন।
দুই দেশের সীমান্তজুড়ে সাম্প্রতিক উত্তেজনা দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।