পবিত্র ঈদ-উল ফিতরকে সামনে রেখে বরিশালসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলের ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে। নাড়ির টানে পরিবার-পরিজনের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে আগেভাগেই বাসের টিকিট ও লঞ্চের কেবিন বুকিংয়ের জন্য ভিড় করছেন যাত্রীরা। তবে এবারের ঈদযাত্রায় আনন্দের পাশাপাশি জ্বালানি সংকটের শঙ্কা তৈরি হওয়ায় ফিরতি যাত্রার অগ্রীম টিকিট নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। সোমবার (১৬ মার্চ) সকালে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামীকাল ১৭ মার্চ থেকে বরিশালগামী যাত্রীদের চাঁপ বাড়বে এবং ঈদ শেষে ২৫ মার্চ পর্যন্ত চলবে ফিরতি যাত্রা। ইতোমধ্যে ঢাকা-বরিশাল নৌপথে যাত্রীদের চাঁপ বাড়তে শুরু করেছে। লঞ্চ সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ১৯ মার্চ পর্যন্ত ঢাকা-বরিশাল রুটের প্রায় সব লঞ্চের কেবিন বুকিং সম্পন্ন হয়েছে। ফলে শেষ মুহুর্তে অনেক যাত্রীরাই কেবিন পাচ্ছেন না। ঢাকা-বরিশাল রুটে চলাচলকারী প্রিন্স আওলাদ-১০ লঞ্চের বরিশালের কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা তানভীর ইসলাম বলেন, ঈদকে সামনে রেখে ঢাকা থেকে বরিশালগামী যাত্রার সবধরনের কেবিন ইতোমধ্যে অগ্রীম বিক্রি হয়ে গেছে। অপরদিকে এম. খান-৭ লঞ্চের ম্যানেজার শুভ জানান, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে আমাদের পক্ষ থেকে সবধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। যাত্রীদের চাঁপ বেশি থাকায় বরিশালগামী প্রায় সব কেবিনের টিকিট অগ্রীম বিক্রি হয়ে গেছে। তবে লঞ্চের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে ফিরতি যাত্রার অগ্রীম বুকিং টিকিট নিয়ে। এ বিষয়ে লঞ্চ মালিক সমিতির বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। লঞ্চঘাটে টিকিটের জন্য ভিড় করা কয়েকজন যাত্রীরা জানান, ঈদের আগে বাড়ি যাওয়ার টিকিট পাওয়া গেলেও ফিরতি টিকিট নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। আমিনুল ইসলাম নামের এক যাত্রী বলেন, ঈদের আগে বাড়ি যাওয়ার টিকিট পেয়েছি কিন্তু ঢাকায় ফেরার জন্য অগ্রীম টিকিট বুকিং করতে পারিনি। যদি ফিরতি টিকিট না পাই তাহলে কর্মস্থলে ফিরতে সমস্যা হবে। অপর যাত্রী রিয়াজুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছর আমরা যাওয়া-আসার টিকিট একসাথে ক্রয় করে রাখি। কিন্তু এবার কাউন্টার থেকে বলা হচ্ছে এখনই ফিরতি টিকিট দেওয়া যাবে না। বরিশাল সদর নৌ-পুলিশের ওসি অসীম কুমার শিকদার বলেন, নির্বিঘ্ন ঈদযাত্রা উপলক্ষে লঞ্চঘাট এলাকায় বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অতিরিক্ত ভাড়া বা টিকিট সংক্রান্ত অনিয়ম ঠেকাতে আমরা নিয়মিত তদারকি করছি। বরিশাল নদী বন্দর কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, ঈদকে সামনে রেখে লঞ্চঘাটে যাত্রীদের চাঁপ বাড়বে। তাই শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আমরা বাড়তি নজরদারি করছি। যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে বন্দর কর্তৃপক্ষ সবধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নৌ-রুটের ন্যায় সড়কপথেও একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বরিশালগামী বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হলেও ফিরতি টিকিট বিক্রি করা হচ্ছেনা। লাবিবা পরিবহনের বরিশালের ম্যানেজার আকাশ রহমান বলেন, আগের বছরগুলোতে যাত্রীরা যাওয়া-আসার টিকিট একসাথে ক্রয় করতেন। কিন্তু এবার জ্বালানি তেলের সংকটের আশঙ্কায় আমরা ফিরতি টিকিটের অগ্রিম বুকিং নিচ্ছি না। অপরদিকে হানিফ পরিবহনের বরিশাল কাউন্টারের ম্যানেজার মামুন জানিয়েছেন, যদি জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে তাহলে যাত্রীরা কাউন্টারে এসেই ফিরতি টিকিট ক্রয় করতে পারবেন। তবে এখনই ফিরতি আগাম টিকিটের বুকিং নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বরিশাল জেলা বাস মালিক গ্রুপের সভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন, আমরা আশা করছি সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রেখেই ঈদযাত্রা সম্পন্ন হবে। তবে জ্বালানি সরবরাহে কিছুটা সমস্যা দেখা দিয়েছে। ঢাকা থেকে একটি যাত্রীবাহী বাসের রাউন্ড ট্রিপ সম্পন্ন করতে প্রায় ১১০ লিটার তেলের প্রয়োজন হয়। তবে জ্বালানি সংকটের অভিযোগ অস্বীকার করে মেঘনা পেট্রোলিয়ামের বরিশাল ডিপোর ম্যানেজার মো. শাহ আলম বলেন, জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। অবৈধ মজুদ ঠেকাতে প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে ঈদকে সামনে রেখে বরিশালসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলের ঘরমুখো মানুষের ভিড় বাড়লেও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে শঙ্কার কারণে ফিরতি যাত্রা নিয়ে অনিশ্চয়তার তৈরি হয়েছে। ফলে অনেক যাত্রী এখনো নিশ্চিত হতে পারছেন না ঈদের ছুটি শেষে ঠিক কবে এবং কীভাবে কর্মস্থলে ফিরবেন।