রাজশাহীর পুঠিয়ায় কর্তৃপক্ষের অনিয়ম অবহেলার ও গাফিলতির কারণে দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার শতাধিক হাট-বাজারে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়াই মাংস বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। আগামী কয়েকদিনে ভিতরে ঈদ উদযাপিত হতে যাচ্ছে। এ উপলক্ষে উপজেলা জুড়ে মাংস বিক্রেতারা ব্যাপকহারে পশু জবাইয়ের পরিকল্পনা করেছেন। সরকারি নিয়নুয়াযী ছাগল গরু মহিষ জবাই করার পূর্বে সঠিকভাবে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার পর তা জবাই করার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু উপজেলা প্রানিসম্পদ ও স্বাস্থ্য পরিদর্শকের মাসোহারা নেওয়ার জন্য হাট-বাজারগুলোতে পশু জবাই করার সময়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয় না বলে অভিযোগ উঠেছে। পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা দেখার দায়িত্বে রয়েছেন। উপজেলা প্রানিসম্পদ,স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও পৌরসভার স্বাস্থ্য পরিদর্শক। দেখা গেছে,বড় হাট-বাজারে সংশ্লিষ্ট অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত মনোনীত ব্যক্তিরা কেউ প্রতিদিন আবার কেউ মাসোহারা ভিত্তিতে টাকা নিয়ে থাকেন বলে একাধিক পশুর মাংস বিক্রেতারা জানিয়েছেন। উপজেলার কোনো হাট-বাজারে পশুর স্বাস্থ্য সঠিকভাবে পরীক্ষা করা হয় না। এরপর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে মাংস বিক্রি তদারকি না থাকায়, তারা ইচ্ছা মতো দাম দিয়ে মাংস বিক্রি করছে। বর্তমানে যে দামে বাজারে মাংস বিক্রি করা হচ্ছে তার চেয়ে আরো বেশি দামে ঈদ উপলক্ষে বিক্রি করা হবে বলে মাংস বিক্রেতা জানিয়েছেন। তাই ১১ সেপ্টেম্বরে বানেশ্বর হাটের দিন গরুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়াই গরুর মাংস বিক্রির সময়ে জবাইকৃত পশুর পেট হতে বাচ্চা গরু (বাছুর) পাওয়া গিয়ে ছিল। ইতোপূর্বেও উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে মরা ও গরুর পেটে বাচ্চা থাকা পরুর মাংস বিক্রির নজির রয়েছে। বিশেষ করে বানেশ্বর হাটে এমন ঘটনা বেশি ঘটে থাকে। কিন্তু অদ্যবধি সংশ্লিষ্ট মাংস বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে কঠোর আইনী কোনো ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি। বরং মাংস বিক্রির স্থানগুলিতে দায়িত্বপ্রাপ্তরা এসে শুধুমাত্র পশু দেখে মাংস বিক্রি করার ছাড়পত্র দিয়ে যায়। এদিকে আগামী কয়েকদিনে ভিতরে ঈদ উদযাপিত হতে যাচ্ছে। এই উপলক্ষে উপজেলা জুড়ে মাংস বিক্রেতারা ব্যাপকহারে পশু জবাইয়ের পরিকল্পনা করেছেন বলে মাংস বিক্রেতা জানিয়েছেন। ঈদের আগের দিন এবং ঈদের দিন মাংস কেনার হিরিক পড়ে যাবে। তখন সাধারণ মানুষ মাংস কেনা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়বে। এই সুযোগে কাজে লাগিয়ে অসৎ মাংস বিক্রেতারা রোগব্যাধিকৃত গরুর মাংস ব্যাপকহারে বিক্রি করার সম্ভবনা বেশি দেখা দিয়েছে। এতে রোগে আত্রুান্ত পশুর মাংস খেলে মানুষের শরীরের বিভিন্নরকম রোগ আক্রামণ দেখা দেবে। তারপর পাশের জেলা নাটোরে পশুর তড়কা (অ্যানথ্র্যক্স) ্েরাগ দেখা দিয়েছে। যদি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঈদের কয়েক দিন পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা সঠিকভাবে না করে মাংস বিক্রি সুযোগ করে দেয়। তাহলে ঈদের ভিতর রোগকৃত মাংস বিক্রি হবে বলে সচেতন ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রানিসম্পদ কর্মকর্তা ডা মাহমুদুর হাসান বলেন, ঈদ উপলক্ষে আমাদের পাচঁ সদস্য বিশিষ্ট একটি টিম মাঠে কাজ করবে। যাতে করে কোনো স্থানে রোগাক্রান্ত পশু জবাই করে মাংস বিক্রি না করতে পারে। আর যাদি বিক্রি করার চেষ্টা করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।