হালিশহর বিস্ফোরণে৬ জনের মৃত্যু, গ্যাস লিক নয় বলছে তদন্ত কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ১৭ মার্চ, ২০২৬, ০৫:৫৮ পিএম
হালিশহর বিস্ফোরণে৬ জনের মৃত্যু, গ্যাস লিক নয় বলছে তদন্ত কমিটি

চট্টগ্রামের হালিশহরে একটি আবাসিক ভবনে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে ছয়জনের মৃত্যুর ঘটনায় গ্যাস লিকের কোনো প্রমাণ পায়নি তদন্ত কমিটি। বরং ত্রুটিপূর্ণ বিদ্যুৎ সংযোগ বা দাহ্য রাসায়নিক পদার্থ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

২৩ ফেব্রুয়ারি ভোরে হালিশহরের এইচ ব্লকের হালিমা মঞ্জিলের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে বিস্ফোরণের পর আগুন লাগে। এতে একই পরিবারের ৯ জন দগ্ধ হন। পরে ঢাকার জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মধ্যে ছয়জনের মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, গ্যাস লিক থেকেই এই বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে। এ নিয়ে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড এবং ফায়ার সার্ভিস আলাদা তদন্ত কমিটি গঠন করে। সম্প্রতি কেজিডিসিএলের চার সদস্যের তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়।

কমিটির প্রধান মো. রফিক খান বলেন, “আমরা আমাদের প্রতিবেদন সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবরে জমা দিয়েছি। প্রতিবেদনে বিস্ফোরণের কারণ ও প্রতিরোধে করণীয় উল্লেখ করা হয়েছে।” তবে তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, “গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ ঘটার কোনো আলামত আমরা পাইনি।”

তিনি আরও বলেন, “গ্যাস লিক হলে রান্নাঘরের চুলা, নব, সংযোগসহ বিভিন্ন উপকরণ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা। কিন্তু সেগুলোর কোনো ক্ষতির চিহ্ন পাওয়া যায়নি। রান্নাঘরের জানালা ও বায়ু চলাচলের অবস্থাও দেখে মনে হয়েছে, সেখানে গ্যাস জমে থাকার পরিস্থিতি ছিল না।”

তদন্তে উঠে এসেছে, ওই ফ্ল্যাটে গাড়ির এসির কম্প্রেসর, রং করার কাজে ব্যবহৃত রাসায়নিক ভর্তি ড্রাম এবং ব্যাটারি রাখা ছিল। এসব উপকরণ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ত্রুটিপূর্ণ বিদ্যুৎ সংযোগ বা এসব দাহ্য উপাদান থেকেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।

এদিকে ওই ঘটনায় দগ্ধ তিন শিশু এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তারা হলেন উম্মে আয়মান (১০), ফারহান (৬) ও আয়েশা (৪)।

বিশ্লেষকদের মতে, আবাসিক ভবনে দাহ্য রাসায়নিক ও গাড়ির যন্ত্রাংশ সংরক্ষণ বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করে। এই ঘটনায় সেই ঝুঁকিই সামনে এসেছে। একই সঙ্গে শহরের আবাসিক এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে