চন্দ্রায় ঈদযাত্রার চাপ, ১২ কিলোমিটারজুড়ে যানজট, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
| আপডেট: ১৮ মার্চ, ২০২৬, ১২:১২ এএম | প্রকাশ: ১৮ মার্চ, ২০২৬, ১২:১২ এএম
চন্দ্রায় ঈদযাত্রার চাপ, ১২ কিলোমিটারজুড়ে যানজট, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের ঢলে গাজীপুরের চন্দ্রা এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সন্ধ্যার পর হঠাৎ যাত্রী ও যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে গেলে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কসহ আশপাশের সড়কে প্রায় ১০ থেকে ১২ কিলোমিটারজুড়ে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থেকে দুর্ভোগে পড়েছেন বাড়ি ফেরা মানুষ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, চন্দ্রা বাস টার্মিনালে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। সফিপুর থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার এবং কবিরপুর এলাকা থেকে আরও ৫ কিলোমিটারজুড়ে গাড়ির দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয়েছে। যানবাহন থেমে থেমে চলায় যাত্রীরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। অনেকেরই চন্দ্রা পৌঁছাতে এক থেকে দুই ঘণ্টা সময় লেগেছে, আবার টার্মিনালে এসে যাত্রী তোলার জন্য বাস দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকছে।

এই পরিস্থিতির পেছনে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে শিল্পাঞ্চল গাজীপুরের পোশাক কারখানাগুলোর ছুটি। ছুটি ঘোষণার পর বিপুল সংখ্যক শ্রমিক একসঙ্গে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ায় সড়কে হঠাৎ চাপ বেড়ে যায়। ফলে চন্দ্রা এলাকায় কার্যত অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়।

ঢাকা থেকে বগুড়াগামী যাত্রী রুবেল হোসেন বলেন, “চন্দ্রা পর্যন্ত আসতেই প্রায় দেড় থেকে দুই ঘণ্টা সময় লেগেছে। রাস্তায় গাড়ি চলছে খুব ধীরে, আবার টার্মিনালে এসে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।”

পোশাককর্মী সুমাইয়া আক্তার বলেন, “সারাদিন কাজ শেষে বাস ধরতে এসে দেখি প্রচণ্ড ভিড়। কোনো শৃঙ্খলা নেই, কখন গাড়ি ছাড়বে সেটাও নিশ্চিত না।”

আরেক যাত্রী আলমগীর হোসেনের কথায়, “ঈদের সময় চন্দ্রা এলাকায় এলেই ভোগান্তি বাড়ে, এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।”

যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশ ও জেলা পুলিশের সদস্যরা বিভিন্ন পয়েন্টে কাজ করলেও সন্ধ্যার পর হঠাৎ চাপ বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। কোনাবাড়ী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সওগাতুল আলম বলেন, “ঈদের সময় যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। চন্দ্রা এলাকায় সড়ক সংকুচিত থাকায় ধীরগতি তৈরি হয়। আমরা অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছি।”

গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন বলেন, “চন্দ্রা ত্রিমোড় দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ কেন্দ্র। ঈদের সময় চাপ বাড়লে এখানে সমস্যা তৈরি হয়। যানজট নিয়ন্ত্রণে হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশও মাঠে কাজ করছে।”

প্রতি ঈদেই চন্দ্রা এলাকায় যানজটের পুনরাবৃত্তি নতুন কিছু নয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই ত্রিমোড়ে চার দিক থেকে যানবাহন এসে মিশে যায়। নবীনগর, আশুলিয়া, চান্দনা চৌরাস্তা ও টাঙ্গাইল দিক থেকে একসঙ্গে চাপ তৈরি হওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। ফ্লাইওভার থাকলেও তা পুরোপুরি কার্যকর না হওয়া এবং নিচে যাত্রী ও যানবাহনের জটলা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে। কোনো কারণে সামান্য সময়ের জন্য যানবাহন থেমে গেলেই কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়।

এদিকে একই দিন রাত পর্যন্ত সিরাজগঞ্জ মহাসড়কে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাত ১১টা পর্যন্ত যমুনা সেতুর পশ্চিম পাড়সহ উত্তরবঙ্গগামী সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক ছিল। হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ওসি মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, “যানবাহনের চাপ বাড়লেও কোথাও যানজট নেই, সবকিছু স্বাভাবিকভাবে চলছে।”

তবে চন্দ্রা এলাকায় চাপ অব্যাহত থাকায় সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, শিল্পকারখানার ছুটি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। পুলিশ জানিয়েছে, যানজট নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েনসহ নানা প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে